Tuesday, 1 July 2025

বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ভিড়ে হারাচ্ছে আবাসিকতা

বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ভিড়ে হারাচ্ছে আবাসিকতা


ধানমন্ডির সাতমসজিদ প্রধান সড়কসংলগ্ন প্রতিটি আবাসিক এলাকায় রয়েছে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। বাড়িকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে হাসপাতাল, বিদ্যালয়, খাবারের দোকান

ধানমন্ডির সাতমসজিদ প্রধান সড়কসংলগ্ন প্রতিটি আবাসিক এলাকায় রয়েছে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। বাড়িকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে হাসপাতাল, বিদ্যালয়, খাবারের দোকানছবি: জাহিদুল করিম

ধানমন্ডির মতো বৃহত্তম আবাসিক এলাকায় হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর—সবকিছুই লাগবে। তবে পরিমিত মাত্রায়। সব হতে হবে প্রাণ, প্রকৃতি ও প্রতিবেশবান্ধব। বর্তমানে এসবের কিছুই হচ্ছে না। ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা তার চরিত্র হারিয়েছে। এখানে যে ভবনগুলোতে হাসপাতাল চালু রয়েছে, সেগুলো মূলত আবাসিক ভবন।

বলছিলেন রাজধানীর ধানমন্ডির ১৪/এ সড়কের স্থায়ী বাসিন্দা, জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান। সম্প্রতি ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কে দাঁড়িয়ে কথা হয় তাঁর সঙ্গে।

সকাল-দুপুর, বিকেল-রাত ধানমন্ডিতে যানজট লেগে থাকে প্রধান সড়ক এমনকি অলিগলিতেও। ধানমন্ডির মতো একই চিত্র দেখা গেছে লালমাটিয়াতেও। লালমাটিয়ার আবাসিক ভবনগুলোতে গড়ে উঠেছে বাণিজ্যিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর ফলে একসময়ের নিরিবিলি আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত লালমাটিয়ায় এখন যানবাহনে গিজগিজ করে। এ দুই এলাকার বাসিন্দাদের জন্য রয়েছে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, নান্দনিক লেক, খেলার মাঠ ও প্রশস্ত রাস্তা। কিন্তু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের দাপটে এ দুই আবাসিক এলাকার যে সুনাম, তা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

ঘিঞ্জি হয়ে উঠেছে ধানমন্ডি

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক স্থপতি সাজিদ বিন দোজার লেখা থেকে জানা যায়, ‘এক শতাব্দী আগেও ধানমন্ডি ছিল উলুখাগড়া আর ছনগাছের রাজ্য। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর ধানমন্ডি নামের এই প্রান্তিক গ্রামে মানুষজন বসবাস শুরু করে।’

এখন ধানমন্ডি ২৭ ও সাতমসজিদ রোড দিয়ে হাঁটলেই চোখে পড়বে দুই পাশজুড়ে হাসপাতাল, ব্যাংক, রেস্তোরাঁ, কফিশপ, শোরুম—সব মিলিয়ে ধানমন্ডির প্রতিটি বড় রাস্তা যেন একেকটি বাণিজ্যিক অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। মূল সড়ক দুটির লাগোয়া সড়কেও গড়ে উঠেছে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। ধানমন্ডির ১৫/এ সড়কে রয়েছে একটি হাসপাতাল। প্রতিদিন অসংখ্য রোগী, রোগীর আত্মীয়স্বজন, ব্যক্তিগত গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ভিড় করে সড়কটিতে।

আবাসিক ভবনে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা সীমিত। ফলে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ধানমন্ডিতে আসা গাড়িগুলো অলিগলিতে পার্ক করে রাখা হয়েছে। এই চিত্র দেখা গেল ধানমন্ডির ১৪/এ সড়কে এসে। প্রশস্ত সড়কটির এক পাশে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। ওষুধ বিপণনকর্মীরা সকালের গ্রুপ মিটিং রাস্তাতেই সেরে নিচ্ছেন। সড়কটি বেশ প্রশস্ত। সংস্কারকাজ চলছে। গত ৫ আগস্ট-পরবর্তী জটিলতায় কাজ বন্ধ ছিল দীর্ঘ সময়। এই সড়কটির অপর পাশের ফুটপাত দখল করে চলছে মাছ-মাংস-ভাত-ডাল রান্নার কাজ। সড়কে পাতা হয়েছে টেবিল। খোলা পরিবেশে ধুলাবালুর মধ্যে রোগীর আত্মীয়স্বজন খোলা বাংলা হোটেলে পেটের ক্ষুধা মেটাচ্ছেন। সড়কটিতে একটি মেডিকেল কলেজ, একটি ডেন্টাল কলেজ, একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল রয়েছে।

ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে অবস্থিত এবি ব্যাংকের পাশের সড়কটির নম্বর ১৬। এই সড়কে নামফলকহীন পাশাপাশি দুটি পুরোনো দ্বিতল বাড়ি এখনো টিকে আছে। বাড়ি দুটির আঙিনায় এখনো কিছু গাছপালা দেখা যায়। কিন্তু নতুন বহুতল ভবনগুলোতে ফাঁকা জায়গা বা সবুজের অস্তিত্ব নেই। আশির দশকেও ধানমন্ডির প্রতিটি প্লটে এ রকম একটি করে সুন্দর একতলা বা দোতলা বাড়ি ছিল।

ইতিহাসবিদ ও গবেষক মুনতাসীর মামুনের বিখ্যাত গ্রন্থ ঢাকা স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী থেকে জানা যায়, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার গোড়াপত্তন হয় ১৯৪৮-৪৯ সালে, পাকিস্তান আমলে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের অধিগ্রহণে এটি ঢাকার প্রথম পরিকল্পিত আবাসিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে ওঠে

লালমাটিয়ার যত্রতত্র স্কুল

লালমাটিয়া নিয়ে হতাশার কথা জানালেন বাংলা একাডেমির অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জালাল আহমেদ। তিনি লালমাটিয়া সি-ব্লকের স্থায়ী বাসিন্দা। অবসরপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা বলেন, ‘লালমাটিয়াজুড়ে যত্রতত্র স্কুল খোলা হয়েছে। এখানে কোনো বাণিজ্যিক প্লট নেই। তারপরও প্রায় প্রতিটি সড়কেই একটি-দুটি করে দোকানপাট গড়ে উঠছে। পুরো ঢাকা থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে আসছে, সঙ্গে অভিভাবক। এর ফলে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লালমাটিয়ায় মানুষ, ব্যক্তিগত যানবাহন, ‘ভয়ংকর’ অটোরিকশাগুলোর দাপটে রাস্তায় পা ফেলাই দায়।

লালমাটিয়ার গলিপথ ঘুরে তাঁর কথার সত্যতা পাওয়া গেল। বি-ব্লকের ২, ৪, ৬ ও ৭ নম্বর রোডে আবাসিক ভবনেই খোলা হয়েছে বিদ্যালয়! বহুতল ভবন ভাড়া নিয়ে তিন-চার কক্ষের ফ্ল্যাট বাড়িতে চলছে স্কুল।

লালমাটিয়া আবাসিক এলাকায় মাঠ রয়েছে তিনটি। ডি ও সি ব্লকের মাঠটিতে স্থানীয় বাসিন্দারা খেলাধুলার সুযোগ পেলেও এ ব্লকে আড়ংয়ের পাশের মাঠটিতে প্রায় দুই বছর ধরে সংস্কারকাজ চলছে। মাঠটি টিন দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। ভেতরে সংস্কারকাজের জন্য আনা বালু মাঠজুড়ে উঁচু ঢিবি হয়ে আছে।

আইন কী বলে

আবাসিক এলাকার বাণিজ্যিকীকরণ ঠেকাতে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী, আবাসিক এলাকার প্লটগুলোতে নির্দিষ্ট কার্যক্রমের বাইরে বাণিজ্যিক ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা-২০২৩ খসড়ায় বলা আছে, কোনো ইমারত/স্থাপনা বসবাস বা ব্যবহারের সনদপত্রে উল্লেখিত ব্যবহারের উদ্দেশ্যবহির্ভূত অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। অন্যথায় ইমারত নির্মাণ আইন ও অন্যান্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এস এম শফিকুর রহমান বলেন, ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজাউক) ইতিমধ্যে ৩ হাজার ১৯২টি অবৈধ ভবন চিহ্নিত করেছে। এই অবৈধ ভবনগুলোর উচ্ছেদ কার্যক্রম রাজাউক শুরু করবে। আবাসিক এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ যে কোন বাণিজ্যিক কার্যক্রম আমরা নীতিগতভাবে ঠিক মনে করি না। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) তৈরি বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বা ড্যাপ অনুযায়ী আবসিক এলাকায় অনুমোদিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ট্যাক্স আদায় কার্যক্রম আমরা গতিশীল করার চেষ্টা করছি।’






জুলাই অভ্যুত্থান স্মরণে মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন প্রধান উপদেষ্টার

জুলাই অভ্যুত্থান স্মরণে মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন প্রধান উপদেষ্টার

 

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস |সংগৃহীত

জুলাই অভ্যুত্থান স্মরণে মাসব্যাপী কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

মাসব্যাপী জুলাই স্মৃতি উদযাপনে যেসব অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে সেগুলো হলো-

১ জুলাই : মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জাসহ অন্যান্য উপসানালয়ে শহীদদের স্মরণে দোয়া ও প্রার্থনা। জুলাই ক্যালেন্ডার প্রদান (অনলাইন-অফলাইন)। জুলাই হত্যাযজ্ঞের খুনিদের বিচারের দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি সূচনা, চলবে ১ আগস্ট পর্যন্ত। জুলায় শহীদ স্মরণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবৃত্তি চালু।

৫ জুলাই : বিভিন্ন সময় অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকারের জুলুম নির্যাতন প্রচারে দেশব্যাপী পোস্টারিং কর্মসূচি চালু।

৭ জুলাই : julyforever.org নামে ওয়েবসাইট চালু।

১৪ জুলাই : ‘মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম’ ১৪ জুলাইয়ের ভিডিও শেয়ার, একজন শহীদ পরিবারের সাক্ষ্য; যা চলবে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত। জুলাই নারী দিবস হিসেবে এই দিনটিকে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিন প্রত্যেক জেলায় জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন। শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে ৬৪টি জেলায় ও দেশের প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাইয়ের ভিডিও প্রদর্শন। টিএসসিতে ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, প্রজেকশন ম্যাপিং ও জুলাইয়ের গান। ড্রোন শো।

১৫ জুলাই : ‘আমি চিৎকার করে কাঁদিতে চাহিয়া’ শিরোনামে ১৫ জুলাইয়ের ভিডিও শেয়ার। জুলাই স্মৃতিচারণ। ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী এবং জুলাইয়ের গান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলইডি ওয়াল ইনস্টলেশন। প্রজেকশন ম্যাপিং। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ডকুমেন্টারি প্রদর্শন।

১৯ জুলাই : ‘কত বিপ্লবী বন্ধুর রক্তে রাঙ্গা’ ১৯ জুলাইয়ের ভিডিও, নরসিংদী, সাভার, ঢাকাসহ সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে জুলাইয়ের তথ্যচিত্র প্রদর্শন। গণহত্যা ও ছাত্রজনতার প্রতিরোধ দিবস।

২৪ জুলাই : শিশু শহীদদের স্মরণে ‘কি করেছে তোমার বাবা’ শিরোনামে ২৪ জুলাইয়ের ভিডিও শেয়ার। শিশু শহীদদের স্মরণে দেশব্যাপী কর্মসূচি। দেশব্যাপী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘২৪ এর রঙে গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্গন’ প্রতিযোগিতা। নারায়ণগঞ্জের শিশু শহীদ রিয়া গোপের স্মরণে অনুষ্ঠান। শিশু শহীদদের স্মরণে অনুষ্ঠান জুলাইয়ের তথ্যচিত্র প্রদর্শনী ও গান। শিশু একাডেমিতে জুলাইয়ের শিশু শহীদদেরকে থিম করে একটি আইকনিক ভাস্কর্য স্থাপন। শিশুদের জন্য জুলাই আন্দোলনকে উপজীব্য করে গ্রাফিক একটি নভেল প্রকাশ।

৩০ জুলাই : ‘চল চল চল’ ৩০ জুলাইয়ের ভিডিও শেয়ার। অনলাইনে জুলাই স্মরণ। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখা সাংবাদিকদের নিয়ে অনুষ্ঠান।

৩১ জুলাই ‘কাণ্ডারি হুঁশিয়ার’ : ৩১ জুলাইয়ের ভিডিও শেয়ার। দেশব্যাপী সব কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির স্মরণে অনুষ্ঠান।

৩২ জুলাই (আগস্ট ১) ‘গণজোয়ার’ : ৩২ জুলাইয়ের ভিডিও শেয়ার। ৬৪টি জেলায় জুলাই নিয়ে বানানো তথ্যচিত্র প্রদর্শন। সব বাংলাদেশী দূতাবাসে জুলাই নিয়ে বানানো নির্বাচিত তথ্যচিত্র প্রদর্শনী। ‘২৪ জুলাই ফটোগ্রাফারের চোখ দিয়ে’ কফি টেবিল বুক প্রকাশনা। জুলাই হত্যাযজ্ঞের খুনিদের বিচারের দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচির সমাপ্তি।

৩৩ জুলাই (আগস্ট ২) ‘আমি বাংলায় গান গাই’ : ৩৩ জুলাইয়ের ভিডিও শেয়ার। বাংলাদেশের সব জেলার ‘জুলাইয়ের মায়েরা’ শীর্ষক বিভিন্ন অনুষ্ঠান, প্রজেকশন ম্যাপিং।

৩৪ জুলাই (আগস্ট ৩) ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’ : ৩৪ জুলাইয়ের ভিডিও শেয়ার। শাহবাগ থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত শোভাযাত্রা। রিকশায় জুলাইয়ের গ্রাফিতি অঙ্কন ও রিকশা মিছিল। ৬৪টি জেলায় জুলাই নিয়ে বানানো তথ্যচিত্র প্রদর্শনী।

৩৫ জুলাই (আগস্ট ৪) ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে’ : ৩৫ জুলাইয়ের ভিডিও শেয়ার। সারাদেশে জুলাই যোদ্ধাদের সমাগম, জুলাইয়ের কার্টুনের প্রদর্শনী। ৬৪টি জেলায় ‘স্পটলাইট অন জুলাই হিরোজ’ শীর্ষক তথ্যচিত্র প্রদর্শনী।

৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট) ‘শোনো মহাজন’ : ৩৬ জুলাইয়ের ভিডিও শেয়ার। ৬৪ জেলার কেন্দ্রে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ। শহীদ পরিবারের সাথে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ, শহীদদের জন্য প্রার্থনা, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ অভিমুখে বিজয় মিছিল, এয়ার শো। গানের অনুষ্ঠান, ‘জুলাইয়ের ৩৬ দিন’সহ জুলাইয়ের অন্যান্য ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, ড্রোন শো এবং র‍্যাপের সাথ বচসা।

জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে বিএনপির সভা, উদ্বোধন করলেন তারেক রহমান

জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে বিএনপির সভা, উদ্বোধন করলেন তারেক রহমান



জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘গণঅভ্যুত্থান ২০২৪: জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক বিএনপির আলোচনাসভা শুরু হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ফিরোজা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

 

মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিকেলে আলোচনাসভা ও শহীদ পরিবারের সম্মাননা অনুষ্ঠান শুরু হয়। 

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সদস্যসচিব আবুল হোসেন। এরপর শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মূল আয়োজন শুরু হয়।

 

লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে কর্মসূচি উদ্বোধন করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

 

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয় বর্ষপূর্তি কমিটির আহ্বায়ক রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন।

 

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় এলে এসব পরিবারকে ‘বিশেষ সুবিধা’ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, জাহিদ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা উপস্থিত আছেন।