সর্বশেষ

Tuesday, 1 July 2025

বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ভিড়ে হারাচ্ছে আবাসিকতা

বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ভিড়ে হারাচ্ছে আবাসিকতা


ধানমন্ডির সাতমসজিদ প্রধান সড়কসংলগ্ন প্রতিটি আবাসিক এলাকায় রয়েছে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। বাড়িকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে হাসপাতাল, বিদ্যালয়, খাবারের দোকান

ধানমন্ডির সাতমসজিদ প্রধান সড়কসংলগ্ন প্রতিটি আবাসিক এলাকায় রয়েছে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। বাড়িকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে হাসপাতাল, বিদ্যালয়, খাবারের দোকানছবি: জাহিদুল করিম

ধানমন্ডির মতো বৃহত্তম আবাসিক এলাকায় হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর—সবকিছুই লাগবে। তবে পরিমিত মাত্রায়। সব হতে হবে প্রাণ, প্রকৃতি ও প্রতিবেশবান্ধব। বর্তমানে এসবের কিছুই হচ্ছে না। ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা তার চরিত্র হারিয়েছে। এখানে যে ভবনগুলোতে হাসপাতাল চালু রয়েছে, সেগুলো মূলত আবাসিক ভবন।

বলছিলেন রাজধানীর ধানমন্ডির ১৪/এ সড়কের স্থায়ী বাসিন্দা, জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান। সম্প্রতি ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কে দাঁড়িয়ে কথা হয় তাঁর সঙ্গে।

সকাল-দুপুর, বিকেল-রাত ধানমন্ডিতে যানজট লেগে থাকে প্রধান সড়ক এমনকি অলিগলিতেও। ধানমন্ডির মতো একই চিত্র দেখা গেছে লালমাটিয়াতেও। লালমাটিয়ার আবাসিক ভবনগুলোতে গড়ে উঠেছে বাণিজ্যিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর ফলে একসময়ের নিরিবিলি আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত লালমাটিয়ায় এখন যানবাহনে গিজগিজ করে। এ দুই এলাকার বাসিন্দাদের জন্য রয়েছে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, নান্দনিক লেক, খেলার মাঠ ও প্রশস্ত রাস্তা। কিন্তু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের দাপটে এ দুই আবাসিক এলাকার যে সুনাম, তা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

ঘিঞ্জি হয়ে উঠেছে ধানমন্ডি

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক স্থপতি সাজিদ বিন দোজার লেখা থেকে জানা যায়, ‘এক শতাব্দী আগেও ধানমন্ডি ছিল উলুখাগড়া আর ছনগাছের রাজ্য। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর ধানমন্ডি নামের এই প্রান্তিক গ্রামে মানুষজন বসবাস শুরু করে।’

এখন ধানমন্ডি ২৭ ও সাতমসজিদ রোড দিয়ে হাঁটলেই চোখে পড়বে দুই পাশজুড়ে হাসপাতাল, ব্যাংক, রেস্তোরাঁ, কফিশপ, শোরুম—সব মিলিয়ে ধানমন্ডির প্রতিটি বড় রাস্তা যেন একেকটি বাণিজ্যিক অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। মূল সড়ক দুটির লাগোয়া সড়কেও গড়ে উঠেছে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। ধানমন্ডির ১৫/এ সড়কে রয়েছে একটি হাসপাতাল। প্রতিদিন অসংখ্য রোগী, রোগীর আত্মীয়স্বজন, ব্যক্তিগত গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ভিড় করে সড়কটিতে।

আবাসিক ভবনে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা সীমিত। ফলে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ধানমন্ডিতে আসা গাড়িগুলো অলিগলিতে পার্ক করে রাখা হয়েছে। এই চিত্র দেখা গেল ধানমন্ডির ১৪/এ সড়কে এসে। প্রশস্ত সড়কটির এক পাশে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। ওষুধ বিপণনকর্মীরা সকালের গ্রুপ মিটিং রাস্তাতেই সেরে নিচ্ছেন। সড়কটি বেশ প্রশস্ত। সংস্কারকাজ চলছে। গত ৫ আগস্ট-পরবর্তী জটিলতায় কাজ বন্ধ ছিল দীর্ঘ সময়। এই সড়কটির অপর পাশের ফুটপাত দখল করে চলছে মাছ-মাংস-ভাত-ডাল রান্নার কাজ। সড়কে পাতা হয়েছে টেবিল। খোলা পরিবেশে ধুলাবালুর মধ্যে রোগীর আত্মীয়স্বজন খোলা বাংলা হোটেলে পেটের ক্ষুধা মেটাচ্ছেন। সড়কটিতে একটি মেডিকেল কলেজ, একটি ডেন্টাল কলেজ, একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল রয়েছে।

ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে অবস্থিত এবি ব্যাংকের পাশের সড়কটির নম্বর ১৬। এই সড়কে নামফলকহীন পাশাপাশি দুটি পুরোনো দ্বিতল বাড়ি এখনো টিকে আছে। বাড়ি দুটির আঙিনায় এখনো কিছু গাছপালা দেখা যায়। কিন্তু নতুন বহুতল ভবনগুলোতে ফাঁকা জায়গা বা সবুজের অস্তিত্ব নেই। আশির দশকেও ধানমন্ডির প্রতিটি প্লটে এ রকম একটি করে সুন্দর একতলা বা দোতলা বাড়ি ছিল।

ইতিহাসবিদ ও গবেষক মুনতাসীর মামুনের বিখ্যাত গ্রন্থ ঢাকা স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী থেকে জানা যায়, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার গোড়াপত্তন হয় ১৯৪৮-৪৯ সালে, পাকিস্তান আমলে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের অধিগ্রহণে এটি ঢাকার প্রথম পরিকল্পিত আবাসিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে ওঠে

লালমাটিয়ার যত্রতত্র স্কুল

লালমাটিয়া নিয়ে হতাশার কথা জানালেন বাংলা একাডেমির অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জালাল আহমেদ। তিনি লালমাটিয়া সি-ব্লকের স্থায়ী বাসিন্দা। অবসরপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা বলেন, ‘লালমাটিয়াজুড়ে যত্রতত্র স্কুল খোলা হয়েছে। এখানে কোনো বাণিজ্যিক প্লট নেই। তারপরও প্রায় প্রতিটি সড়কেই একটি-দুটি করে দোকানপাট গড়ে উঠছে। পুরো ঢাকা থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে আসছে, সঙ্গে অভিভাবক। এর ফলে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লালমাটিয়ায় মানুষ, ব্যক্তিগত যানবাহন, ‘ভয়ংকর’ অটোরিকশাগুলোর দাপটে রাস্তায় পা ফেলাই দায়।

লালমাটিয়ার গলিপথ ঘুরে তাঁর কথার সত্যতা পাওয়া গেল। বি-ব্লকের ২, ৪, ৬ ও ৭ নম্বর রোডে আবাসিক ভবনেই খোলা হয়েছে বিদ্যালয়! বহুতল ভবন ভাড়া নিয়ে তিন-চার কক্ষের ফ্ল্যাট বাড়িতে চলছে স্কুল।

লালমাটিয়া আবাসিক এলাকায় মাঠ রয়েছে তিনটি। ডি ও সি ব্লকের মাঠটিতে স্থানীয় বাসিন্দারা খেলাধুলার সুযোগ পেলেও এ ব্লকে আড়ংয়ের পাশের মাঠটিতে প্রায় দুই বছর ধরে সংস্কারকাজ চলছে। মাঠটি টিন দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। ভেতরে সংস্কারকাজের জন্য আনা বালু মাঠজুড়ে উঁচু ঢিবি হয়ে আছে।

আইন কী বলে

আবাসিক এলাকার বাণিজ্যিকীকরণ ঠেকাতে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী, আবাসিক এলাকার প্লটগুলোতে নির্দিষ্ট কার্যক্রমের বাইরে বাণিজ্যিক ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা-২০২৩ খসড়ায় বলা আছে, কোনো ইমারত/স্থাপনা বসবাস বা ব্যবহারের সনদপত্রে উল্লেখিত ব্যবহারের উদ্দেশ্যবহির্ভূত অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। অন্যথায় ইমারত নির্মাণ আইন ও অন্যান্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এস এম শফিকুর রহমান বলেন, ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজাউক) ইতিমধ্যে ৩ হাজার ১৯২টি অবৈধ ভবন চিহ্নিত করেছে। এই অবৈধ ভবনগুলোর উচ্ছেদ কার্যক্রম রাজাউক শুরু করবে। আবাসিক এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ যে কোন বাণিজ্যিক কার্যক্রম আমরা নীতিগতভাবে ঠিক মনে করি না। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) তৈরি বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বা ড্যাপ অনুযায়ী আবসিক এলাকায় অনুমোদিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ট্যাক্স আদায় কার্যক্রম আমরা গতিশীল করার চেষ্টা করছি।’






জুলাই অভ্যুত্থান স্মরণে মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন প্রধান উপদেষ্টার

জুলাই অভ্যুত্থান স্মরণে মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন প্রধান উপদেষ্টার

 

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস |সংগৃহীত

জুলাই অভ্যুত্থান স্মরণে মাসব্যাপী কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

মাসব্যাপী জুলাই স্মৃতি উদযাপনে যেসব অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে সেগুলো হলো-

১ জুলাই : মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জাসহ অন্যান্য উপসানালয়ে শহীদদের স্মরণে দোয়া ও প্রার্থনা। জুলাই ক্যালেন্ডার প্রদান (অনলাইন-অফলাইন)। জুলাই হত্যাযজ্ঞের খুনিদের বিচারের দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি সূচনা, চলবে ১ আগস্ট পর্যন্ত। জুলায় শহীদ স্মরণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবৃত্তি চালু।

৫ জুলাই : বিভিন্ন সময় অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকারের জুলুম নির্যাতন প্রচারে দেশব্যাপী পোস্টারিং কর্মসূচি চালু।

৭ জুলাই : julyforever.org নামে ওয়েবসাইট চালু।

১৪ জুলাই : ‘মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম’ ১৪ জুলাইয়ের ভিডিও শেয়ার, একজন শহীদ পরিবারের সাক্ষ্য; যা চলবে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত। জুলাই নারী দিবস হিসেবে এই দিনটিকে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিন প্রত্যেক জেলায় জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন। শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে ৬৪টি জেলায় ও দেশের প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাইয়ের ভিডিও প্রদর্শন। টিএসসিতে ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, প্রজেকশন ম্যাপিং ও জুলাইয়ের গান। ড্রোন শো।

১৫ জুলাই : ‘আমি চিৎকার করে কাঁদিতে চাহিয়া’ শিরোনামে ১৫ জুলাইয়ের ভিডিও শেয়ার। জুলাই স্মৃতিচারণ। ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী এবং জুলাইয়ের গান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলইডি ওয়াল ইনস্টলেশন। প্রজেকশন ম্যাপিং। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ডকুমেন্টারি প্রদর্শন।

১৯ জুলাই : ‘কত বিপ্লবী বন্ধুর রক্তে রাঙ্গা’ ১৯ জুলাইয়ের ভিডিও, নরসিংদী, সাভার, ঢাকাসহ সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে জুলাইয়ের তথ্যচিত্র প্রদর্শন। গণহত্যা ও ছাত্রজনতার প্রতিরোধ দিবস।

২৪ জুলাই : শিশু শহীদদের স্মরণে ‘কি করেছে তোমার বাবা’ শিরোনামে ২৪ জুলাইয়ের ভিডিও শেয়ার। শিশু শহীদদের স্মরণে দেশব্যাপী কর্মসূচি। দেশব্যাপী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘২৪ এর রঙে গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্গন’ প্রতিযোগিতা। নারায়ণগঞ্জের শিশু শহীদ রিয়া গোপের স্মরণে অনুষ্ঠান। শিশু শহীদদের স্মরণে অনুষ্ঠান জুলাইয়ের তথ্যচিত্র প্রদর্শনী ও গান। শিশু একাডেমিতে জুলাইয়ের শিশু শহীদদেরকে থিম করে একটি আইকনিক ভাস্কর্য স্থাপন। শিশুদের জন্য জুলাই আন্দোলনকে উপজীব্য করে গ্রাফিক একটি নভেল প্রকাশ।

৩০ জুলাই : ‘চল চল চল’ ৩০ জুলাইয়ের ভিডিও শেয়ার। অনলাইনে জুলাই স্মরণ। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখা সাংবাদিকদের নিয়ে অনুষ্ঠান।

৩১ জুলাই ‘কাণ্ডারি হুঁশিয়ার’ : ৩১ জুলাইয়ের ভিডিও শেয়ার। দেশব্যাপী সব কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির স্মরণে অনুষ্ঠান।

৩২ জুলাই (আগস্ট ১) ‘গণজোয়ার’ : ৩২ জুলাইয়ের ভিডিও শেয়ার। ৬৪টি জেলায় জুলাই নিয়ে বানানো তথ্যচিত্র প্রদর্শন। সব বাংলাদেশী দূতাবাসে জুলাই নিয়ে বানানো নির্বাচিত তথ্যচিত্র প্রদর্শনী। ‘২৪ জুলাই ফটোগ্রাফারের চোখ দিয়ে’ কফি টেবিল বুক প্রকাশনা। জুলাই হত্যাযজ্ঞের খুনিদের বিচারের দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচির সমাপ্তি।

৩৩ জুলাই (আগস্ট ২) ‘আমি বাংলায় গান গাই’ : ৩৩ জুলাইয়ের ভিডিও শেয়ার। বাংলাদেশের সব জেলার ‘জুলাইয়ের মায়েরা’ শীর্ষক বিভিন্ন অনুষ্ঠান, প্রজেকশন ম্যাপিং।

৩৪ জুলাই (আগস্ট ৩) ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’ : ৩৪ জুলাইয়ের ভিডিও শেয়ার। শাহবাগ থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত শোভাযাত্রা। রিকশায় জুলাইয়ের গ্রাফিতি অঙ্কন ও রিকশা মিছিল। ৬৪টি জেলায় জুলাই নিয়ে বানানো তথ্যচিত্র প্রদর্শনী।

৩৫ জুলাই (আগস্ট ৪) ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে’ : ৩৫ জুলাইয়ের ভিডিও শেয়ার। সারাদেশে জুলাই যোদ্ধাদের সমাগম, জুলাইয়ের কার্টুনের প্রদর্শনী। ৬৪টি জেলায় ‘স্পটলাইট অন জুলাই হিরোজ’ শীর্ষক তথ্যচিত্র প্রদর্শনী।

৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট) ‘শোনো মহাজন’ : ৩৬ জুলাইয়ের ভিডিও শেয়ার। ৬৪ জেলার কেন্দ্রে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ। শহীদ পরিবারের সাথে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ, শহীদদের জন্য প্রার্থনা, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ অভিমুখে বিজয় মিছিল, এয়ার শো। গানের অনুষ্ঠান, ‘জুলাইয়ের ৩৬ দিন’সহ জুলাইয়ের অন্যান্য ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, ড্রোন শো এবং র‍্যাপের সাথ বচসা।

জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে বিএনপির সভা, উদ্বোধন করলেন তারেক রহমান

জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে বিএনপির সভা, উদ্বোধন করলেন তারেক রহমান



জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘গণঅভ্যুত্থান ২০২৪: জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক বিএনপির আলোচনাসভা শুরু হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ফিরোজা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

 

মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিকেলে আলোচনাসভা ও শহীদ পরিবারের সম্মাননা অনুষ্ঠান শুরু হয়। 

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সদস্যসচিব আবুল হোসেন। এরপর শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মূল আয়োজন শুরু হয়।

 

লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে কর্মসূচি উদ্বোধন করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

 

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয় বর্ষপূর্তি কমিটির আহ্বায়ক রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন।

 

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় এলে এসব পরিবারকে ‘বিশেষ সুবিধা’ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, জাহিদ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা উপস্থিত আছেন।

Saturday, 28 June 2025

নতুন আগ্রাসন হলে আরও ধ্বংসাত্মক ও ভিন্ন মাত্রায় প্রতিশোধ নেবে ইরান

নতুন আগ্রাসন হলে আরও ধ্বংসাত্মক ও ভিন্ন মাত্রায় প্রতিশোধ নেবে ইরান

ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডস কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইহুদিবাদী সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, যেকোনো নতুন আগ্রাসন ইরানের ভিন্ন এবং আরও কঠোর প্রতিক্রিয়ার সূত্রপাত করবে, যা ত্বরান্বিত করবে ইসরায়েলের পতনকে।

শনিবার তেহরানে আয়োজিত ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সরকারের আগ্রাসন যুদ্ধে শহীদ ৬০ জনেরও বেশি ইরানির জানাজায় অংশ নিয়ে এই মন্তব্য করেন জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েনি। তিনি বলেন, যুদ্ধে ইহুদিবাদী সরকার এবং আমেরিকা তাদের ঘোষিত উদ্দেশ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।

“ইহুদিবাদী সরকার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভ্রান্তিকর প্রেসিডেন্টের প্রতি আমাদের শেষ বার্তা: ইরানের জাতীয় স্বার্থ এবং সম্পদ আবারও লঙ্ঘিত হলে এবার আমাদের প্রতিক্রিয়া হবে ভিন্ন, আরও নিষ্পেষণমূলক এবং আরও ধ্বংসাত্মক, যা (ইহুদিবাদী) সরকারের পতনের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে,” বলেন আইআরজিসি মুখপাত্র।

জেনারেল নাইনয় বলেন, ইরানি জাতির শক্তির আসল উপাদান সম্পর্কে ট্রাম্পের কোনও জ্ঞান নেই। তিনি আরও বলেন, শত্রু বুঝতে পেরেছিল যে, ইরানের প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রাখা ইহুদিবাদী সরকারের অস্তিত্বের জন্য একটি গুরুতর হুমকি তৈরি করবে।

আইআরজিসি মুখপাত্র বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সর্বশেষ আগ্রাসন যুদ্ধে শত্রুকে পিছু হটতে বাধ্য করা হয়েছে এবং তারা তাদের পরাজয় স্বীকার করেছে।

"বেশিরভাগ ইরানি জনগণ আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিশোধ এবং অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাচ্ছিল। তারা আরও কঠোর শাস্তির প্রত্যাশা করছিল। শত্রু নিজেই হতাশা থেকে যুদ্ধবিরতি চেয়েছে," তিনি আরও যোগ করেন। সূত্রঃ তাসনিম নিউজ এজেন্সি


বিশ্বজুড়ে দিন দিন বেড়েই চলেছে শরণার্থীদের সংখ্যা

বিশ্বজুড়ে দিন দিন বেড়েই চলেছে শরণার্থীদের সংখ্যা

বিশ্বজুড়ে দিন দিন বেড়েই চলেছে শরণার্থীদের সংখ্যা। বর্তমানে মোট ৪ কোটি ১০ লাখ শরণার্থী রয়েছেন। যাদের মধ্যে ১ কোটি ৩ লাখ বা প্রায় এক তৃতীয়াংশই শিশু। অর্থাৎ, প্রতি ১০০ জন শরণার্থীর মধ্যে ৩৩ জন শিশু। যাদের প্রত্যেকেরই আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রয়োজন। 

শনিবার আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে দুই-তৃতীয়াংশ শিশু শরণার্থী মাত্র চারটি দেশ থেকে এসেছে-আফগানিস্তান (২৮ লাখ), সিরিয়া (২৭ লাখ), ভেনিজুয়েলা (১৮ লাখ) এবং দক্ষিণ সুদান (১৩ লাখ)। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শরণার্থী শিশুদের মধ্যে ৬৮ লাখ (৫১ শতাংশ) ছেলে এবং ৬৫ লাখ (৪৯ শতাংশ মেয়ে)। যদিও লিঙ্গের বিচারে সংখ্যার পার্থক্য খুব বেশি নয়, তবে শরণার্থী শিশুরা তাদের লিঙ্গ অনুসারে আলাদা ধরনের ঝুঁকিতে থাকে। মেয়েরা প্রায়ই সহিংসতা ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। 

অন্যদিকে ছেলেরা শারীরিক সহিংসতা ও নিপীড়নের ভিন্ন রূপের মুখোমুখি হয়। বিশেষত যারা পরিবার থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন। শরণার্থী শিশুদের বয়স বিবেচনায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে ২৪ শতাংশ শিশু ছিল ০-৪ বছর বয়সি, ৪৪ শতাংশ ৫-১১ বছর বয়সি এবং ৩২ শতাংশ ১২-১৭ বছর বয়সি। ১৯৫১ সালে বিশ্বে মাত্র ২১ লাখ শরণার্থী ছিল। আজকের সংখ্যাটি তার চেয়ে ২০ গুণ বেশি। 

আফগানিস্তানের ১৭ বছর বয়সি এক তরুণ সমীর (ছদ্মনাম)। তালেবানের ভয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয় ছেলেটি। এই আফগান তরুণের ব্রিটেনে পৌঁছাতে সময় লেগেছে দেড় বছর। এই দীর্ঘ যাত্রা তাকে নিয়ে গেছে সেই ১২ শতাংশ শরণার্থী শিশুর তালিকায়। যারা নিজেদের দেশ থেকে ২,০০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করেছে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। 

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৯০ শতাংশ শরণার্থী শিশু কমপক্ষে ৫০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছে। অর্ধেকের বেশি শিশুই ৫০০ থেকে ১,০০০ কিলোমিটার দূরত্বে ভ্রমণ করেছে। যে পথ গাড়িতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বা বিমানে ২ ঘণ্টায় অতিক্রম করা যায়, সে পথ এই শিশুরা পায়ে হেঁটে, ভেঙে ভেঙে ট্রাকে, কিংবা নৌকায় করে বিপদসংকুল যাত্রা সম্পন্ন করে। 

২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, শরণার্থীদের জন্য সবচেয়ে বেশি আশ্রয়দাতা দেশ ইরান (১৮ লাখ), তুরস্ক (১৪ লাখ) ও উগান্ডা (৯ লাখ ৬৫ হাজার)। এসব শরণার্থী শিশুরা ভয়াবহ মানসিক সমস্যার শিকার হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। তাদের সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক আহ্বানও জানিয়েছে সংস্থাটি। 

নামাজ আদায়ের পদ্ধতি

নামাজ আদায়ের পদ্ধতি

 নবীজী ﷺ নামাযের পূর্বে পবিত্রতা অর্জন করতেন।


{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ۚ وَإِن كُنتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا }


“হে মুমিনগণ! যখন তোমরা নামাযের জন্যে প্রস্তুত হবে তখন তোমরা তোমাদের চেহারা ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত করবে এবং তোমাদের মাথা মাসেহ করবে এবং টাখনু পর্যন্ত পা ধৌত করবে। আর যদি তোমরা ‘জুনুবী’ হও তাহলে বিশেষভাবে পবিত্রতা অর্জন (গোসল) করবে।” -সূরা মায়েদা, আয়াত: ৬।


قال رَسُولَ اللهُ : لاَ تُقْبَلُ صَلاَةٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ وَلاَ صَدَقَةٌ مِنْ غُلُولٍ.


“পবিত্রতা ছাড়া কোনো নামায কবুল হয় না এবং খেয়ানতের সম্পদ থেকে কোনো দান কবুল হয় না।” -সহীহ মুসলিম (২২৪), সুনানে তিরমিযী (১), সুনানে কুবরা-নাসাঈ (৭৯) ।


নামাযের জন্য নতুন অযু করতেন, কখনো এক অযু দিয়েও কয়েক ওয়াক্ত নামায আদায় করতেন।


كَانَ النَّبِيُّ ‘ يَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلاَةٍ، فَلَمَّا كَانَ عَامُ الفَتْحِ صَلَّى الصَّلَوَاتِ كُلَّهَا بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ.


“নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি নামাযের জন্যে অযু করতেন। তবে মক্কা বিজয়ের বছর তিনি এক অযুতে সকল নামায আদায় করলেন এবং মোজার উপর মাসেহ করলেন।” -(সহীহ) সুনানে তিরমিযী (৬১), সহীহ মুসলিম (২৭৭), সুনানে আবু দাউদ (১৭২)।


قَالَ رَسُولُ اللهُ ‘إِذَا قُمْتَ إِلَى الصَّلَاةِ فَأَسْبِغِ الْوُضُوءَ


“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তুমি নামাযে দাঁড়ানোর ইচ্ছা করো তখন পরিপূর্ণভাবে অযূ কর।” -সহীহ বুখারী (৬২৫১) সহীহ মুসলিম (৩৯৭), মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (৩২২)।


পবিত্র কাপড় পরিধান করতেন।


{وَثِيَابَكَ فَطَهِّر}{خُذُوْا زِيْنَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ}


“তুমি তোমার কাপড় পবিত্র কর।”


“প্রতি নামাযের সময় তোমরা সুন্দর পরিচ্ছদ গ্রহণ কর।” -সূরা মুদ্দাসসির, আয়াত: ৪; সূরা আরাফ, আয়াত: ৩১


শরীরে বা কাপড়ে নাপাকি থাকলে তা পবিত্র করতেন এবং অন্যদেরকেও পবিত্র করতে বলতেন।


قال رسولُ الله ‘: إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمْ إِلَى الْمَسْجدِ فَلْيَنْظُرْ، فَإِنْ رَأَى فِى نَعْلَيْهِ قَذَرًا أَوْ أَذًى فَلْيَمْسَحْهُ وَلْيُصَلِّ فِيهِمَا.


“কেউ যখন মসজিদে আসে সে যেন খেয়াল করে। যদি তার জুতায় ময়লা বা নাপাকি কিছু দেখতে পায় তাহলে সে যেন তা মুছে নেয় এবং সেগুলো নিয়েই নামায পড়ে।” -(সহীহ) সুনানে আবু দাউদ (৬৫০), সুনানে কুবরা-নাসাঈ (৪৪২৩), সহীহ ইবনে হিব্বান (২১৮৫)।


নামাযের উপযোগী পবিত্র স্থানে দাঁড়াতেন।


{وَإِذْ بَوَّأْنَا لِإِبْرَاهِيمَ مَكَانَ الْبَيْتِ أَن لَّا تُشْرِكْ بِي شَيْئًا وَطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْقَائِمِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ}


“আর স্মরণ করো যখন আমি ইবরাহীমের জন্যে বায়তুল্লাহর স্থানকে নির্ধারণ করলাম এবং বললাম, আমার সাথে কোনো শরীক স্থির করো না এবং আমার ঘরকে পবিত্র রেখো তাদের জন্যে যারা তাওয়াফ করে, নামাযে দাঁড়ায়, রুকূ করে ও সেজদা করে।” -সূরা হজ্জ, আয়াত: ২৬।


الْأَرْضُ كُلُّهَا مَسْجِدٌ إِلَّا الْمَقْبَرَةَ وَالْحَمَّامَ.


“ইস্তিঞ্জাখানা ও কবরস্থান ছাড়া যমীন পুরোটাই নামাযের স্থান।” -(সহীহ) সুনানে তিরমিযী (৩১৭), সুনানে আবু দাউদ (৪৯২), সহীহ ইবনে খুযায়মা (৭৯১)।


কখনো সরেজমীনে নামায পড়তেন; কখনো জায়নামাযে।


عَنْ أَبِيْ سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى رَسُولِ اللهُ ‘ فَوَجَدَهُ يُصَلِّي عَلَى حَصِيرٍ يَسْجُدُ عَلَيْهِ.


“আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে প্রবেশ করে তাঁকে একটি চাটাইয়ে নামাযরত পেলেন। তিনি তার উপর সেজদা করছিলেন।” -সহীহ মুসলিম (৬৬১), দ্র. সহীহ বুখারী (৭৩০), সহীহ মুসলিম (৬৫৮)।


وَكَانَ يُصَلِّى عَلَى خُمْرَةٍ.


“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাটাইয়ে নামায পড়তেন।” -সহীহ মুসলিম (৬৬০ “২৭০”), মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (৪০৪২), মুসনাদে আহমাদ (২৬১১১)।


আল্লাহ তাআলা হযরত জিবরীল আলাইহিস সালামকে প্রেরণ করে নবীজীকে ﷺ নামাযের সময় শিক্ষা দিয়েছেন।


قال رسول الله ‘:أمَّنِي جِبْرِيلُ عِنْدَ البَيْتِ مَرَّتَيْنِ وفي رواية للنسائي: يُعَلِّمُهُ مَوَاقِيتَ الصَّلَاةِ.


“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জিবরীল বাইতুল্লাহর কাছে আমার নামাযের ইমামতি করেছেন দুইবার। নাসাঈ-র এক বর্ণনায় রয়েছে, তিনি তাকে নামাযের সময় শিখাচ্ছিলেন।” -(সহীহ) মুসনাদে আহমাদ (৩৩২২), সুনানে আবু দাউদ (৩৯৩), সুনানে নাসাঈ (৫১৩); দ্র. সুনানে তিরমিযী (১৪৯), শরহু মাআনিল আছার, ১/১১১।


নবীজী ﷺ নির্ধারিত সময়ে নামায আদায় করতেন।


كَانَ رَسُولُ اللهِ ‘ يُصَلِّي الصَّلَاةَ لِوَقْتِهَا إِلَّا بِجَمْعٍ وَعَرَفَاتٍ.


“আরাফা ও মুযদালিফা ছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল নামায সময়মত আদায় করতেন।”-(সহীহ) সুনানে নাসাঈ (৩০১০); দ্র. সহীহ বুখারী (১৬৮২), সহীহ মুসলিম (১২৮৯), শরহু মাআনিল আছার, ১/১২২।


তিনি সাহাবা কেরামকে মৌখিক ও আমলের মাধ্যমে নামাযের সময় শিক্ষা দিয়েছেন।


قَالَ رَسُولُ اللهِ ‘: إِنَّ لِلصَّلَاةِ أَوَّلًا وَآخِرًا


“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, প্রতিটি নামাযের ওয়াক্তের শুরু ও শেষ রয়েছে।” -(হাদীস সহীহ) মুসনাদে আহমাদ (৭১৭২) সুনানে তিরমিযী (১৫১) শরহু মাআনিল আছার ১/১১৩, আলমুহাল্লা ৩/১৩৯।


أَتَى النَّبِيَّ ‘ رَجُلٌ، فَسَأَلَهُ عَنْ مَوَاقِيتِ الصَّلاَةِ، فَقَالَ: أَقِمْ مَعَنَا إِنْ شَاءَ اللهُ، فَأَمَرَ بِلاَلاً فَأَقَامَ حِينَ طَلَعَ الفَجْرُ، ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ حِينَ زَالَتِ الشَّمْسُ، فَصَلَّى الظُّهْرَ، ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ، فَصَلَّى العَصْرَ -وَالشَّمْسُ بَيْضَاءُ مُرْتَفِعَةٌ- ثُمَّ أَمَرَهُ بِالمغْرِبِ حِينَ وَقَعَ جَانِبُ الشَّمْسِ، ثُمَّ أَمَرَهُ بِالعِشَاءِ فَأَقَامَ حِينَ غَابَ الشَّفَقُ، ثُمَّ أَمَرَهُ مِنَ الغَدِ فَنَوَّرَ بِالفَجْرِ، ثُمَّ أَمَرَهُ بِالظُّهْرِ، فَأَبْرَدَ وَأَنْعَمَ أَنْ يُبْرِدَ، ثُمَّ أَمَرَهُ بِالعَصْرِ فَأَقَامَ، وَالشَّمْسُ آخِرُ وَقْتِهَا فَوْقَ مَا كَانَتْ، ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَخَّرَ الْمَغْرِبَ إِلَى قُبَيْلِ أَنْ يَغِيبَ الشَّفَقُ، ثُمَّ أَمَرَهُ بِالعِشَاءِ فَأَقَامَ حِينَ ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ. ثُمَّ قَالَ: أَيْنَ السَّائِلُ عَنْ مَوَاقِيتِ الصَّلاَةِ؟ فَقَالَ الرَّجُلُ: أَنَا، فَقَالَ: مَوَاقِيتُ الصَّلاَةِ كَمَا بَيْنَ هَذَيْنِ.


“নবীজী ﷺ ’র কাছে এক ব্যক্তি এসে নামাযের ওয়াক্ত সম্পর্কে জানতে চাইলো। নবীজী ﷺ বললেন, ইনশাআল্লাহ তুমি আমাদের সাথে নামাযে দাঁড়াও। পরে নবীজী ﷺ বেলাল রা.কে ইকামাতের নির্দেশ দিলেন এবং সুবহে সাদিকের উন্মেষের সাথে সাথে ফজরের নামায পড়লেন। সূর্য হেলে পড়ার সাথে সাথে তিনি বেলাল রা.কে ইকামতের নির্দেশ দিলেন এবং যোহর নামায পড়লেন। তিনি আবার বেলাল রা.-কে ইকামতের নির্দেশ দিলেন এবং আসরের নামায পড়লেন, সূর্য তখনও আকাশে উজ্জ্বল। যখন সূর্য অস্তমিত হলো তিনি বেলাল রা.-কে ইকামতের নির্দেশ দিলেন। আর এশার নির্দেশ দিলেন যখন শাফাক (দিগন্তের লালিমার পরবর্তী সাদা রেশও) মিলিয়ে গেলো। পরদিন তিনি বেলাল রা.-কে ইকামতের নির্দেশ দিলেন। খুব ফর্সা হওয়ার পর ফজর নামায পড়লেন। সূর্যের প্রখর তেজ প্রশমিত ও খুবই শীতল হলে তিনি যোহর নামাযের নির্দেশ দিলেন। আসর নামাযের ইকামতের নির্দেশ দিলেন তখন; যখন আগের দিনের তুলনায় সূর্য আরও নেমে গেছে। পরে তিনি মাগরিব নামাযের ইকামতের নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি নামাযকে বিলম্বিত করলেন লালিমা হারিয়ে যাওয়ার আগমুহুর্তে। এরপর তিনি এশার নামাযের ইকামতের নির্দেশ দিলেন, আর ইশার নামায পড়লেন যখন রাতের এক তৃতীয়াংশ চলে গেছে। এরপর বললেন, কোথায় নামাযের ওয়াক্ত সম্পর্কে প্রশ্নকারী? লোকটি বললো, এই যে আমি। তিনি বললেন, এই দুই ওয়াক্তের মধ্যবর্তী সময়ই হলো নামাযের ওয়াক্ত। -(সহীহ) সুনানে তিরমিযী (১৫২); দ্র. সহীহ মুসলিম (৬১৪), সুনানে নাসাঈ (৫২৩)।


ফজরের সময় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত।


مَنْ أَدْرَكَ مِنَ الصُّبْحِ رَكْعَةً قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ الصُّبْحَ..


“যদি সূর্য উদিত হওয়ার পূর্বে কেউ এক রাকআত পায় তাহলেও সে ফজর নামায পেলো।” -সহীহ বুখারী (৫৭৯), সহীহ মুসলিম (৬০৮), সুনানে তিরমিযী (১৮৬)।


নবীজী ﷺ ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর দু’রাকআত সুন্নাত ব্যতীত অন্য কোনো নামায পড়তেন না।


كَانَ رَسُولُ اللهِ ‘ إِذَا طَلَعَ الْفَجْرُ لاَ يُصَلِّى إِلاَّ رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ.


“সুবহে সাদিকের উন্মেষের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য সময়ের তুলনায় সংক্ষিপ্ত কিরাআতবিশিষ্ট দুই রাকআত নামায পড়তেন।” -সহীহ মুসলিম (৭২৩), সহীহ ইবনে হিব্বান (১৫৮৭), সুনানে কুবরা-নাসাঈ (১৫৫৯)।


সাধারণত ফজরের নামায দীর্ঘ করতেন এবং অনেক ফর্সায় শেষ করতেন।


أَسْفِرُوا بِالفَجْرِ، فَإِنَّهُ أَعْظَمُ لِلأَجْرِ.


“তোমরা চতুর্দিক ফর্সা হয়ে এলে ফজর আদায় করবে। কেননা এতে রয়েছে বিরাট ছাওয়াব।” -(সহীহ) সুনানে তিরমিযী (১৫৪); দ্র. মুসনাদে আহমাদ (১৫৮১৯), সুনানে আবু দাউদ (৪২৪)।


قَالَ السَّائِبُ بْنُ يَزِيدَ: صَلَّيْتُ خَلْفَ عُمَرَ الصُّبْحَ، فَقَرَأَ فِيهَا بِالْبَقَرَةِ، فَلَمَّا انْصَرَفُوا اسْتَشْرَفُوا الشَّمْسَ فَقَالُوا: طَلَعَتْ، فَقَالَ: لَوْ طَلَعَتْ لَمْ تَجِدْنَا غَافِلِينَ.


“সায়েব ইবন ইয়াযিদ বলেন, আমি উমার রা. এর পেছনে ফজরের নামায পড়েছি। তিনি নামাযে সূরা বাকারা তিলাওয়াত করেছেন। যখন সবাই সালাম ফেরালো তখন সূর্যকে উতিদপ্রায় অবস্থায় পেলো। তারা বললো, উদিত হয়ে গেছে। তিনি বললেন, যদি উদিত হতো তাহলে আমাদেরকে গাফেল পেতো না।” -(সহীহ) শরহু মাআনিল আছার ১/১৩৩, যাদুল মাআদ ১/২০৮, কানযুল উম্মাল (২২১০১)।


রামাদান মাসে সুবহে সাদিকের কিছুক্ষণ পরেই নামায শুরু করতেন।


عَنْ أَنَسٍ أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ حَدَّثَهُ: أَنَّهُمْ تَسَحَّرُوا مَعَ النَّبِيِّ ‘ ثُمَّ قَامُوا إِلَى الصَّلَاةِ، قُلْتُ: كَمْ بَيْنَهُمَا؟ قَالَ: قَدْرُ خَمْسِينَ أَوْ سِتِّينَ يَعْنِي آيَةً.


“আনাস রা. থেকে বর্ণিত। যায়েদ বিন ছাবেত রা. তার কাছে বর্ণনা করেছেন, তারা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সেহরী খেলেন। এরপর নামাযে দাঁড়ালেন। আমি বললাম, সেহরী ও নামাযের মধ্যকার ব্যবধান কতক্ষণের? তিনি বললেন, পঞ্চাশ বা ষাট আয়াত তিলাওয়াত পরিমাণ সময়।” -সহীহ বুখারী (৫৭৫), সহীহ মুসলিম (১০৯৭), সুনানে বায়হাকী ১/৪৫৫।


যোহরের সময় ‘যাওয়ালে শাম্স’ তথা সূর্য মধ্যাকাশ থেকে হেলে যাওয়ার পর থেকে প্রত্যেক বস্তুর ছায়া দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত।


عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ ‘ فِي سَفَرٍ، فَأَرَادَ المُؤَذِّنُ أَنْ يُؤَذِّنَ لِلظُّهْرِ، فَقَالَ لَهُ: أَبْرِدْ، ثُمَّ أَرَادَ أَنْ يُؤَذِّنَ، فَقَالَ لَهُ: أَبْرِدْ، ثُمَّ أَرَادَ أَنْ يُؤَذِّنَ، فَقَالَ لَهُ: أَبْرِدْ حَتَّى سَاوَى الظِّلُّ التُّلُولَ فَقَالَ النَّبِيُّ ‘: إِنَّ شِدَّةَ الحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ.


“আবু যর রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এক সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। মুয়াযযিন যোহরের জন্যে আযান দিতে চাইলো। তিনি তাকে বললেন, গরম কমতে দাও। এরপর আবার মুয়াজ্জিন আযান দিতে চাইলো। নবীজী তাকে বললেন, ঠান্ডা হোক। এরপর আবার সে আযান দিতে চাইলো। তিনি তাকে বললেন, ঠান্ডা হোক। একসময় ছায়া পাহাড়ের টিলার বরাবর হলো। (এমনটি সাধারণত বস্তুর ছায়া দ্বিগুণ হলে হয়ে থাকে) তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিশ্চয় তাপের তীব্রতা জাহান্নামের উত্তাপের অংশ।” -সহীহ বুখারী (৫৩৯), মুয়াত্তা মালেক (৩৯), মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক (২০৪১)।র্


عَنْ أبي هريرة قال: صَلِّ الظُّهْرَ إِذَا كَانَ ظِلُّكَ مِثْلَكَ، وَالْعَصْرَ إِذَا كَانَ ظِلُّكَ مِثْلَيْكَ


-(সহীহ) মুআত্তা (৯), মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক (২০৪১), কানযুল উম্মাল (২১৭৩৪)।


এ হাদীসগুলো থেকে যোহরের শেষ দু’মিসিল হওয়া প্রতীয়মান হয়। তবে অন্য হাদীসে এক মিসিলের কথাও বর্ণিত হয়েছে। তাই সতর্কতা হলো, এক মিসিল অন্তর্বর্তী যোহর নামায আদায় করা। আর ওযরবশত দু’মিসিলেও আদায় করা যাবে।


নবীজী ﷺ সাধারণত রোদ প্রখর থাকলে (গ্রীষ্মকালে) নামায বিলম্বে আদায় করতেন, অন্যথায় (শীতকালে) দ্রুত শুরু করতেন।


كَانَ رَسُولُ اللهِ ‘ إِذَا كَانَ الْحَرُّ أَبْرَدَ بِالصَّلَاةِ، وَإِذَا كَانَ الْبَرْدُ عَجَّلَ.


“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গরমকালে ঠান্ডা করে নামায পড়তেন। আর শীতকালে দ্রুত নামায পড়তেন।” -(সহীহ) সুনানে নাসাঈ (৪৯৯), সহীহ বুখারী (৫৩৬, ৯০৬), সহীহ মুসলিম (৬১৫, ৬১৬, ৬১৭)।


আছরের সময় যোহরের শেষ সময় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।


مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنْ الْعَصْرِ قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ، فَقَدْ أَدْرَكَ الْعَصْرَ.


“সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বে যে আসরের এক রাকআত নামায পাবে সে আসর নামায পেলো।” -সহীহ বুখারী (৫৭৯), সহীহ মুসলিম (৬০৮), সুনানে তিরমিযী (১৫৫)।


নবীজী ﷺ সাধারণত আছরের নামায একটু বিলম্বে শুরু করতেন।


كَانَ رَسُولُ اللهِ ‘ أَشَدَّ تَعْجِيلًا لِلظُّهْرِ مِنْكُمْ وَأَنْتُمْ أَشَدُّ تَعْجِيلًا لِلْعَصْرِ مِنْهُ.


“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের চেয়ে দ্রুত যোহর আদায় করতেন আর তোমরা তাঁর চেয়ে দ্রুত আসর নামায আদায় করছো।”-(হাদীস সহীহ) সুনানে তিরমিযী (১৬১, ১৬২), মুসনাদে আহমাদ (২৬৪৭৮)।


মাগরিবের সময় সূর্যাস্তের পর থেকে পশ্চিমাকাশের ‘দিগন্ত-লালিমা’ বিলুপ্ত হওয়া পর্যন্ত।


সুনানে তিরমিযী (১৫২), সহীহ মুসলিম (৬১৪), সুনানে নাসাঈ (৫২৩)।


নবীজী ﷺ সাধারণত সূর্যাস্তের পর-পরই মাগরিবের নামায আদায় করতেন।


إِنَّ رَسُولَ اللهِ ‘ كَانَ يُصَلِّي الْمَغْرِبَ إِذَا غَرَبَتِ الشَّمْسُ، وَتَوَارَتْ بِالْحِجَابِ


-সহীহ মুসলিম (৬৩৬), সহীহ বুখারী (৫৬১),সুনানে তিরমিযী (১৬৪), সুনানে আবু দাউদ (৪১৭)।


এশার সময় মাগরিবের শেষ সময় থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত।


لَيْسَ فِى النَّوْمِ تَفْرِيطٌ، إِنَّمَا التَّفْرِيطُ عَلَى مَنْ لَمْ يُصَلِّ الصَّلاَةَ حَتَّى يَجِىءَ وَقْتُ الصَّلاَةِ الأُخْرَى.


“ঘুমে কোনো ত্রুটি নেই। ত্রুটি হলো সে ব্যক্তির, যে এক ওয়াক্ত নামায না পড়ে এত বিলম্ব করে যে, অন্য নামাযের সময় হয়ে যায়।” (এশার নামায এত বিলম্বে পড়ে যে ফজরের সময় হয়ে যায়) -সহীহ মুসলিম (৬৮১), সুনানে আবু দাউদ (৪৪১), সুনানে কুবরা-নাসাঈ (১৫৮৩)।


كَتَبَ عُمَرُ إِلَى أَبِي مُوسَى: وَصَلِّ الْعِشَاءَ أَيَّ اللَّيْلِ شِئْتَ، وَلَا تَغْفُلْهَا.


“উমার রা. আবু মূসা রা. এর কাছে চিঠি পাঠিয়ে বলেন, এশার নামায পড় রাতের যে সময়ে ইচ্ছা, তবে নামায সম্পর্কে গাফেল হয়ো না।” -(সহীহ) মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (৩২৫০), শরহু মাআনিল আছার, ১/১১৮।


নবীজী ﷺ একটু দেরিতে এশার নামায পড়া পছন্দ করতেন। এশার নামাযের পূর্বে ঘুমানো পছন্দ করতেন না। এশার পর অহেতুক কথা-বার্তা অপছন্দ করতেন।


كَانَ يَسْتَحِبُّ أَنْ يُؤَخِّرَ الْعِشَاءَ، وَكَانَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَهَا وَالْحَدِيثَ بَعْدَهَا.


“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশা নামায বিলম্ব করে পড়তেন। তিনি নামাযের পূর্বে ঘুম আর পরে অহেতুক কথা-বার্তা অপছন্দ করতেন।” -সহীহ বুখারী (৫৬৮), সহীহ মুসলিম (৬৪৭), সুনানে ইবনে মাজাহ (৭০১)।


আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হলে দিনের নামায তথা ফজর, যোহর ও আছর তাড়াতাড়ি শুরু করতেন। রাতের নামায তথা মাগরিব ও এশা একটু বিলম্বে পড়তেন।


قَالَ رَسُولُ اللهِ ‘: عَجِّلُوا صَلَاةَ النَّهَارِ فِي يَوْمِ غَيْمٍ، وَأَخِّرُوا الْمَغْرِبَ.


“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মেঘাচ্ছন্ন দিনে তোমরা দিনের নামাযগুলো দ্রুত পড় আর মাগরিবকে বিলম্ব করে পড়।” -(সহীহ) মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (৬৩৪৬), মারাসিলু আবি দাউদ (১৩): সনদটি মুরসাল, কানযুল উম্মাল (১৯৪১৬)।


ফজর ও আছর নামাযের পর সাধারণত কোনো নফল বা সুন্নাত পড়তেন না।


نَهَى عَنِ الصَّلَاةِ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ، وَعَنِ الصَّلَاةِ بَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُع الشَّمْسُ.


“নবীজী আসরের পর সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত সময়ে এবং ফজর নামাযের পর সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত সময়ে নামায পড়তে নিষেধ করেছেন।” -সহীহ মুসলিম (৮২৫, ৮২৬), সহীহ বুখারী (৫৮৮)। সুনানে নাসাঈ (৫৬১), সুনানে আবু দাউদ (১২৭৬), সুনানে ইবনে মাজাহ (১২৪৮)।


সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত ও ঠিক দ্বিপ্রহরে নামায পড়তে নিষেধ করতেন।


عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ يَقُولُ: ثَلَاثُ سَاعَاتٍ كَانَ رَسُولُ اللهِ ‘ يَنْهَانَا أَنْ نُصَلِّيَ فِيهِنَّ، أَوْ أَنْ نَقْبُرَ فِيهِنَّ مَوْتَانَا: حِينَ تَطْلُعُ الشَّمْسُ بَازِغَةً حَتَّى تَرْتَفِعَ، وَحِينَ يَقُومُ قَائِمُ الظَّهِيرَةِ حَتَّى تَمِيلَ الشَّمْسُ، وَحِينَ تَضَيَّفُ الشَّمْسُ لِلْغُرُوبِ حَتَّى تَغْرُبَ.


“উকবা বিন আমির জুহানী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনটি সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নামায পড়তে এবং মৃতদেরকে দাফন করতে নিষেধ করেছেন। যখন সূর্য উদিত হয় তখন থেকে উপরে উঠে যাওয়া পর্যন্ত, যখন দ্বিপ্রহরের সময় সূর্য মধ্যাকাশে থাকে তখন থেকে হেলে যাওয়া পর্যন্ত, যখন সূর্য অস্ত যাওয়ার উপক্রম হয় তখন থেকে অস্ত যাওয়া পর্যন্ত।” -সহীহ মুসলিম (৮৩১), সুনানে আবু দাউদ (৩১৯২), সুনানে তিরমিযী (১০৩১)।



আজান-ইকামতঃ 


নবীজী ﷺ নামাযের সময় হলে আযান দিতে বলেছেন, মুকীম হোক বা মুসাফির।


إِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ فَلْيُؤَذِّنْ لَكُمْ أَحَدُكُمْ وَلْيَؤُمَّكُمْ أَكْبَرُكُمْ


“যখন নামাযের সময় হয় তখন তোমাদের কেউ যেন আযান দেয় আর তোমাদের যে বড় সে তোমাদেরকে নামায পড়ায়।” -সহীহ বুখারী (৬৮৫), সহীহ মুসলিম (৬৭৪), সুনানে কুবরা-নাসাঈ (১৬০০)।


إِذَا سَافَرْتُمَا فَأَذِّنَا وَأَقِيمَا وَلْيَؤُمَّكُمَا أَكْبَرُكُمَا


“যখন তোমরা সফর করবে তখন আযান দিবে ও ইকামত দিবে। আর তোমাদের যে বড় সে যেন তোমাদের নামায পড়ায়।” -(সহীহ) সুনানে নাসাঈ (৬৩৪), সুনানে তিরমিযী (২০৫) দ্র. সহীহ বুখারী (৬০৪)


নামাযের শুরুতে ইকামাত দিতে বলেছেন।


إِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ، فَأَذِّنَا وَأَقِيمَا ثُمَّ لِيَؤُمَّكُمَا أَكْبَرُكُمَا.


“যখন (তোমরা সফর করবে আর) নামাযের সময় হবে তখন আযান দিবে ও ইকামত দিবে। এরপর তোমাদের যে বড় সে যেন তোমাদের নামায পড়ায়।” -সহীহ বুখারী (৬৫৮), সহীহ মুসলিম (৬৭৪), সুনানে কুবরা-নাসাঈ (১৬৩৩)।


ইকামাতের বাক্যগুলো জোড়া জোড়া করে উচ্চারণ করতে বলেছেন।


عَن أبي مَحذورةَ: أنَّ النَّبِيَّ ‘ عَلَّمَه الإِقَامَةَ سَبْعَ عَشْرَةَ كَلِمَةً.


“আবু মাহযূরা রা. থেকে বর্ণিত, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ইকামত শিখিয়েছেন সতেরো কালিমার। (আর জোড়া করে বললেই সতেরো কালিমা হবে।)” -(সহীহ) সুনানে তিরমিযী (১৯২), সুনানে নাসাঈ (৬৩০)। মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (২১৩২), মুসনাদে আহমাদ (১৫৩৮১), সুনানে আবু দাউদ (৫০২) দ্র. কিতাবুল হুজ্জাহ আলা আহলিল মাদীনাহ, ১/৬৮, ৬৯র্


إنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ زَيْدٍ الأَنْصَارِيَّ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ ‘َ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، رَأَيْتُ فِي الْمَنَامِ كَأَنَّ رَجُلاً قَامَ عَلَى جِذْمَةِ حَائِطٍ، فَأَذَّنَ مَثْنَى، وَأَقَامَ مَثْنَى، وَقَعَدَ قَعْدَةً، قَالَ: فَسَمِعَ ذَلِكَ بِلاَلٌ، فَقَامَ فَأَذَّنَ مَثْنَى، وَأَقَامَ مَثْنَى، وَقَعَدَ قَعْدَةً.


“একবার আবদুল্লাহ বিন যায়েদ রা. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! স্বপ্নে দেখলাম যেন এক ব্যক্তি বাগানের পার্শ্বে দাঁড়িয়ে জোড় শব্দে আযান ও ইকামাত দিচ্ছেন, এবং মাঝখানে কিছু সময়ে বসে থাকলেন।’ বর্ণনাকারী বলেন, বিলাল রা. তা শুনে নিজে জোড় শব্দে আযান ও ইকামাত দিলেন এবং মাঝখানে কিছুক্ষণ বসে থাকলেন।” -(সহীহ) মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (২১৩১), সহীহ ইবনে খুযায়মা (৩৭৯), সুনানে বায়হাকী ১/৪২০।


আযান ও ইকামাতের মৌখিক জবাব দেওয়ার প্রতি উৎসাহিত করেছেন।


إِذَا سَمِعْتُمُ النِّدَاءَ، فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ الْمُؤَذِّنُ


“যখন তোমরা আযান শুনতে পাবে তখন তোমরাও মুয়াযযিনের অনুরূপ আযানের বাক্যগুলো বলবে” -সহীহ বুখারী (৬১১), সহীহ মুসলিম (৮৭৪), সুনানে তিরমিযী (২০৮), সুনানে আবু দাউদ (৫২২)। দ্র. সুনানে আবু দাউদ (৫২৮), সুনানে বায়হাকী ১/৪১১।



জামাআতঃ


নবীজী ﷺ মসজিদে এসে জামাআতে ফরয নামায আদায় করার বহু ফজীলত বর্ণনা করেছেন।


مَنْ غَدَا إِلَى الْمَسْجِدِ وَرَاحَ، أَعَدَّ اللهُ لَهُ نُزُلَهُ مِنْ الْجَنَّةِ كُلَّمَا غَدَا أَوْ رَاحَ


“যে সকাল সন্ধ্যা মসজিদে যাওয়া আসা করে, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাতের আতিথ্য প্রস্তুত করেন যতবার সে যায় আসে।” -সহীহ বুখারী (৬৬২), সহীহ মুসলিম (৬৬৯), সহীহ ইবনে হিব্বান (২০৩৭)।


صَلَاةُ الْجَمَاعَةِ تَفْضُلُ صَلَاةَ الْفَذِّ بِسَبْعٍ وَعِشْرِينَ دَرَجَةً


“জামাতের নামায একাকী নামাযের তুলনায় সাতাশগুণ বেশি মর্যাদা রাখে।” -সহীহ বুখারী (৬৪৫), সহীহ মুসলিম (৬৫০), সহীহ ইবনে হিব্বান (২০৫২)।


তিনি নিজেও মসজিদে জামাআতের সাথে ফরয নামায আদায় করতেন। পুরুষদের জামাআতে উপস্থিত হওয়ার প্রতি অপরিসীম গুরুত্ব দিতেন।


قَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ بِالصَّلاَةِ فَتُقَامَ، ثُمَّ أُخَالِفَ إِلَى مَنَازِلِ قَوْمٍ لاَ يَشْهَدُونَ الصَّلاَةَ، فَأُحَرِّقَ عَلَيْهِمْ.


“আমি ইচ্ছা করেছিলাম, আমি নামাযের নির্দেশ দেব। তখন নামায দাঁড়াবে। এরপর আমি সে লোকদের ঘরে যাব যারা মসজিদে নামাযে উপস্থিত হয় না। তখন আমি তাদের ঘর পুড়িয়ে দেব।” -সহীহ বুখারী (২৪২০), সুনানে তিরমিযী (২১৭) সহীহ মুসলিম (৬৫১, ৬৫২)।


শরঈ ওযর ছাড়া ঘরে ফরয নামায আদায় করতে নিষেধ করেছেন।


مَنْ سَمِعَ النِّدَاءَ فَلَمْ يَأْتِهِ، فَلَا صَلَاةَ لَهُ، إِلَّا مِنْ عُذْرٍ


“যে আযান শোনার পর মসজিদে আসলো না, তার নামায হবে না। তবে ওযর থাকলে ভিন্ন কথা।” -(সহীহ) সুনানে ইবনে মাজাহ (৭৯৩), সহীহ ইবনে হিব্বান (২০৬৪), মুসতাদরাকে হাকেম ১/৩৭২।


خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهُ ‘ فِى سَفَرٍ فَمُطِرْنَا فَقَالَ: لِيُصَلِّ مَنْ شَاءَ مِنْكُمْ فِى رَحْلِهِ


“আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক সফরে বের হলাম। এরপর বৃষ্টির কবলে পড়লাম। তখন তিনি বললেন, তোমাদের যে চায় সে নিজ বাহনে নামায পড়ে নিতে পারে।” -সহীহ মুসলিম (৬৯৮), সুনানে আবু দাউদ (১০৬৫), সহীহ ইবনে হিব্বান (৪৩৭)।


মহিলাদেরকে মসজিদে যাওয়ার নির্দেশ দেননি। বরং বলেছেন, মহিলাদের জন্য ঘরে নামায পড়াই উত্তম।


صَلَاتُكِ فِي دَارِكِ خَيْرٌ لَكِ مِنْ صَلَاتِكِ فِي مَسْجِدِ قَوْمِكِ.


“ঘরে তোমার নামায গোত্রের মসজিদে তোমার নামায থেকে উত্তম।” -(হাদীস সহীহ) মুসনাদে আহমাদ (২৭০৯০), সহীহ ইবনে খুযায়মা (১৬৮৯), সহীহ ইবনে হিব্বান (২২১৭)


عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: لَوْ أَدْرَكَ رَسُولُ الله ‘ مَا أَحْدَثَ النِّسَاءُ لَمَنَعَهُنَّ كَمَا مُنِعَتْ نِسَاءُ بَنِي إِسْرَائِيلَ


“হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আজকাল মহিলারা (মসজিদে গমনের কারণে) যে অবস্থা সৃষ্টি করেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু তা দেখতে পেলে অবশ্যই তাদেরকে বারণ করতেন। যেমন বনী ইসরাঈল মহিলাদেরকে বারণ করা হয়েছিল।” -সহীহ বুখারী (৮৬৯), সহীহ মুসলিম (৪৪৫), সুনানে আবু দাউদ (৫৬৯)।


صَلَاةُ الْمَرْأَةِ فِي بَيْتِهَا أَفْضَلُ مِنْ صَلَاتِهَا فِي حُجْرَتِهَا، وَصَلَاتُهَا فِي مَخْدَعِهَا أَفْضَلُ مِنْ صَلَاتِهَا فِي بَيْتِهَا


“মহিলাদের ঘরে নামায আদায় করা- বৈঠকখানায় নামায আদায় করার চেয়ে উত্তম। এবং মহিলাদের সাধারণ থাকার ঘরে নামায আদায় করার চেয়ে গোপন প্রকোষ্ঠে নামায আদায় করা অধিক উত্তম।” -(হাসান) সুনানে আবু দাউদ (৫৭০), মুসতাদরাকে হাকেম ১/২০৯, (৭৫৭) দ্র. সুনানে তিরমিযী (১১৭৩), সুনানে বায়হাকী ৩/১৩১।


وَبُيُوتُهُنَّ خَيْرٌ لَهُنَّ

“ঘর হলো মহিলাদের নামাযের জন্য উত্তম স্থান।” -(হাদীস সহীহ) সহীহ ইবনে খুযায়মা (১৬৮৪),মুসনাদে আহমাদ (৫৪৬৮), সুনানে আবু দাউদ (৫৬৭), সুনানে বায়হাকী ৩/১৩১।


জামাআতে নামায আদায় করার ক্ষেত্রে কাতার সোজা করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতেন।


أَقبلَ رَسولُ اللهِ عَلى الناسِ بِوَجهِه، فَقَال: أقِيمُوا صُفُوفَكُمْ ثَلَاثًا، وَاللَّهِ لَتُقِيمُنَّ صُفُوفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللهُ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ.


“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের পুরোপুরি অভিমুখী হয়ে বললেন, তোমাদের কাতার সোজা কর। তিনবার একথা বললেন। আল্লাহর শপথ, তোমরা অবশ্যই তোমাদের কাতার সোজা করবে অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের অন্তরের মাঝে বৈপরীত্য সৃষ্টি করে দিবেন।” -(সহীহ) সুনানে আবু দাউদ (৬৬২), সহীহ বুখারী (৭১৭), সুনানে বায়হাকী ১/৭৬।


কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাতার সোজা করতে বলতেন।


وَحَاذُوا بَيْنَ الْمَنَاكِبِ، وَسُدُّوا الْخَلَلَ.


“কাঁধে কাঁধ বরাবর করে দাড়াও এবং মাঝের ফাঁকা বন্ধ কর।” -(সহীহ) মুসনাদে আহমাদ (৫৭২৪), সুনানে আবু দাউদ (৬৬৬) মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক (২৪৪১)।


كَانَ رَسُولُ اللهِ ‘ يَمْسَحُ مَنَاكِبَنَا فِي الصَّلَاةِ، وَيَقُولُ: اسْتَوُوا، وَلَا تَخْتَلِفُوا


“নবীজী ﷺ নামাযে আমাদের কাঁধ স্পর্শ করতেন এবং (কাতার সোজা করার উদ্দেশ্যে) বলতেন, সোজা হয়ে দাঁড়াও, কাতার বাঁকা করো না,” -সহীহ মুসলিম (৪৩২), মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা (৩৫৪৭), মুসনাদে আহমাদ (১৭১০২), সুনানে নাসাঈ (৮১২), মুস্তাখরাজে আবু আওয়ানা (১৩৮২), সহীহ ইবনে খুযায়মা (১৫৪২), সহীহ ইবনে হিব্বান (২১৭২)।


দু’পায়ের মাঝে স্বাভাবিক ফাঁকা রাখতেন। পার্শ্ববর্তী মুসল্লীর পায়ের সাথে পা মিলিয়ে রাখার সুস্পষ্ট নির্দেশ করেন নি। বরং নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ‘কওলী’ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, সাহাবা কেরাম রা. পার্শ্ববর্তী মুসল্লির পা’র সাথে পা’ মিলিয়ে রাখতেন না। বরং উভয়ের মাঝে জুতা রাখা যায়- পরিমাণ ফাঁকা রাখতেন।


إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلَا يَضَعْ نَعْلَيْهِ عَنْ يَمِينِهِ، وَلَا عَنْ يَسَارِهِ، فَتَكُونَ عَنْ يَمِينِ غَيْرِهِ، إِلَّا أَنْ لَا يَكُونَ عَنْ يَسَارِهِ أَحَدٌ، وَلْيَضَعْهُمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ


“তোমাদের কেউ নামাযে দাঁড়ালে সে যেন নিজ জুতা ডান পাশে না রাখে, তদ্রপ বাম পাশেও যেন না রাখে, কেননা তার বাম পার্শ্ব অন্যজনের ডান পার্শ্ব হয়ে যায়। (এ থেকে প্রমাণিত হয়, দুজন মুসল্লীর মাঝে কিছু ফাঁকা থাকত এবং জুতা রাখার সুযোগ ছিলো। তবে অন্যের ডান হওয়াতে রাখতে বারণ করেছেন।) তবে বাম পাশে কেউ না থাকলে রাখতে পারে। (আর যদি উভয় পাশে মুসল্লী থাকে তাহলে) সে যেন নিজ পায়ের মাঝখানে রাখবে।” -(হাসান) সুনানে আবু দাউদ (৬৫৪), সহীহ ইবনে হিব্বান (২১৮৮), মুসতাদরাকে হাকেম (৯৫৪), সুনানে বায়হাকী ২/৪৩২, শরহুস্ সুন্নাহ (৩০২)।


যে হাদীসে পা’র সাথে পা মিলানোর কথা উল্লেখ হয়েছে তার উপর আক্ষরিক অর্থে আমল করা সম্ভব নয়; ব্যাখ্যা অনিবার্য। বিধায় হাফিযুল হাদীস ও সালাফী আলেমরাও বলেছেন, ঐ হাদীস দ্বারা মিলানো উদ্দেশ্য নয়। বরং উদ্দেশ্য হলো, অধিক গুরুত্ব বুঝাানো।


একাধিক মুক্তাদী হলে নবীজী ﷺ সামনে দাঁড়াতেন। একজন হলে তাকে ডানে দাঁড় করাতেন।


عَنْ جَابِرٍ: فَقَامَ رَسُولُ اللهُ ‘ لِيُصَلِّىَ ... ثُمَّ جِئْتُ حَتَّى قُمْتُ عَنْ يَسَارِ رَسُولِ اللهُ ‘ فَأَخَذَ بِيَدِي فَأَدَارَنِى حَتَّى أَقَامَنِي عَنْ يَمِينِهِ ثُمَّ جَاءَ جَبَّارُ بْنُ صَخْرٍ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ جَاءَ فَقَامَ عَنْ يَسَارِ رَسُولِ اللهُ ‘ فَأَخَذَ رَسُولُ اللهُ ‘ بِيَدَيْنَا جَمِيعًا فَدَفَعَنَا حَتَّى أَقَامَنَا خَلْفَه.


“জাবের রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযে দাঁড়ালেন। ... আমি এসে রাসূলুল্লাহর বাম পাশে দাঁড়ালাম। তিনি আমার হাত ধরে আমাকে ঘুরিয়ে ডান দিকে নিয়ে এলেন। এরপর জাব্বার বিন সখর এলেন। তিনি অযু করলেন। এরপর এসে রাসূলুল্লাহর বামপাশে দাঁড়ালেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দুজনের হাত ধরে আমাদেরকে পিছনের দিকে সরিয়ে দিলেন, এভাবে তিনি আমাদেরকে তাঁর পেছনে দাঁড় করালেন।” -সহীহ মুসলিম (৩০১০), সুনানে আবু দাউদ (৬৩৪), মুসতাদরাকে হাকেম (৯৩২)।


প্রয়োজনে সামনে সুতরা স্থাপন করতেন।


قَالَ رَسُولُ اللهُ ‘: إِذَا وَضَعَ أَحَدُكُمْ بَيْنَ يَدَيْهِ مِثْلَ مُؤْخِرَةِ الرَّحْلِ فَلْيُصَلِّ وَلاَ يُبَالِ مَنْ مَرَّ وَرَاءَ ذَلِكَ.


“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন তোমাদের কেউ সামনে হাওদার পেছনের লাঠির মত কিছু স্থাপন করে তখন যেন সে নামাযে দাঁড়ায়, লাঠির ঐ পাশে কে যায় তার যেন পরোয়া না করে।” -সহীহ মুসলিম (৪৯৯) সুনানে তিরমিযী (৩৩৫), কানযুল উম্মাল (১৯২১৭)।


সুতরা’র কাছাকাছি দাঁড়াতেন।


قَالَ رَسُولُ اللهِ ‘:إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ إِلَى سُتْرَةٍ فَلْيَدْنُ مِنْهَا، لاَ يَقْطَعُ الشَّيْطَانُ عَلَيْهِ صَلاَتَهُ.


“কেউ যখন ‘সুতরা’ রেখে নামায পড়ে তখন সে যেন ‘সুতরা’র কাছাকাছি থাকে। শয়তান তার নামাযে বিঘ্নতা সৃষ্টি করতে পারবে না।” -(সহীহ) সুনানে নাসাঈ (৭৪৮), সুনানে আবু দাউদ (৬৯৫), সহীহ ইবনে হিব্বান (২৩৭৩)।


তিনি নামাযীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে নিষেধ করেছেন।


لَوْ يَعْلَمُ المـَارُّ بَيْنَ يَدَيِ المـُصَلِّي مَاذَا عَلَيْهِ، لَكَانَ أَنْ يَقِفَ أَرْبَعِينَ خَيْرًا لَهُ مِنْ أَنْ يَمُرَّ بَيْنَ يَدَيْهِ.


“যদি নামাযীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী জানত তার কী গোনাহ হচ্ছে, তাহলে তার চল্লিশ বছর দাঁড়িয়ে থাকা তার জন্যে উত্তম সামনে দিয়ে যাওয়ার তুলনায়।” -সহীহ বুখারী (৫১০), সহীহ মুসলিম (৫০৭), সুনানে নাসাঈ (৮৩২)।


ইমামের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন মুক্তাদীর অবস্থার প্রতি পূর্ণ লক্ষ রাখতে।


مَنْ صَلَّى بِالنَّاسِ فَلْيُخَفِّفْ، فَإِنَّ فِيهِمُ المَرِيضَ، وَالضَّعِيفَ، وَذَا الحَاجَةِ


“যে ইমাম হবে সে যেন সহজ-স্বাভাবিকভাবে নামায পড়ায়। কারণ, মুসল্লীদের মাঝে অসুস্থ, দূর্বল ও জরুরতওয়ালা লোক থাকে।” -সহীহ বুখারী (৯০), সহীহ মুসলিম (৪৬৭), মুসনাদে আহমাদ (১৭০৬৫), সুনানে ইবনে মাজাহ (৯৮৪)।



নামাজে ক্বিয়ামঃ 


নবীজী ﷺ প্রত্যেক নামাযের পূর্বে নিয়ত করতেন।


إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ، وَإِنَّمَا لِامْرِئٍ مَا نَوَى.


“আমলের ফলাফল নিয়তের উপর নির্ভর করে। আর ব্যক্তির জন্যে তা-ই থাকবে যার নিয়ত সে করেছে।” -সহীহ বুখারী (৬৬৮৯), সহীহ মুসলিম (১৯০৭), সুনানে আবু দাউদ (২২০৩)।


কিবলামুখী হয়ে দাঁড়াতেন।


إِذَا قُمْتَ إِلَى الصَّلاَةِ فَأَسْبِغِ الوُضُوءَ، ثُمَّ اسْتَقْبِلِ القِبْلَةَ فَكَبِّرْ.


“যখন তুমি নামাযে দাঁড়াতে ইচ্ছা করবে তখন পরিপূর্ণভাবে অযু করো। এরপর কেবলামুখী হয়ে তাকবীর বলো।” -সহীহ বুখারী (৬২৫১), সহীহ মুসলিম (৩৯৭), সুনানে ইবনে মাজাহ (১০৬০)।


সফরে আরোহী অবস্থায় নফল নামায পড়ার সময় কিবলামুখী হয়ে নামায শুরু করতেন, পূর্ণ নামাযে কিবলামুখী থাকা আবশ্যক মনে করতেন না।


كَانَ إِذَا سَافَرَ فَأَرَادَ أَنْ يَتَطَوَّعَ اسْتَقْبَلَ بِنَاقَتِهِ الْقِبْلَةَ فَكَبَّرَ ثُمَّ صَلَّى حَيْثُ وَجَّهَهُ رِكَابُهُ.


“তিনি যখন সফরে থাকা অবস্থায় নফল নামায পড়ার ইচ্ছা করতেন তখন উটনীকে কেবলামুখী করতেন। এরপর তাকবীর বলে নামায শুরু করতেন, বাহন তাঁকে যেদিকে অভিমুখী করুক না কেনো।” -(হাদীস সহীহ) সুনানে আবু দাউদ (১২২৫), সহীহ বুখারী (১১০০), সহীহ মুসলিম (৭০১)।


ফরজ নামায ওযর ব্যতীত দাঁড়িয়েই আদায় করতেন।


{وَقُوْمُوْا لِلَّهِ قَانِتِيْنَ}


“তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনীত হয়ে দাঁড়াও।” -সূরা বাকারা, আয়াত: ১৪৪।


كَانَ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ اعْتَدَلَ قَائِمًا.


“তিনি যখন নামাযে দাঁড়াতেন তখন সোজা হয়ে দাঁড়াতেন।” -(সহীহ) মুসনাদে আহমাদ (২৩৫৯৯), সুনানে তিরমিযী (৩০৪), সুনানে ইবনে মাজাহ (৮৬২)।


নফল নামায কখনো দাঁড়িয়ে, কখনো বসে আদায় করতেন।


كَانَ رَسُولُ اللهِ ‘ يُكْثِرُ الصَّلاَةَ قَائِمًا وَقَاعِدًا.


“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে বসে অনেক নামায পড়তেন।” -সহীহ মুসলিম (৭৩০“১১০”), মুসনাদে আহমাদ (২৬২৫৭), সহীহ ইবনে খুযায়মা (১২৪৬)।


কখনো কখনো সাওয়ারীতে আরোহী হয়েও আদায় করতেন।


إِنَّ النَّبِيَّ ‘ كَانَ يُصَلِّي التَّطَوُّعَ وَهُوَ رَاكِبٌ فِي غَيْرِ الْقِبْلَةِ.


“নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারীতে আরও হী অবস্থায় নফল পড়তেন, কেবলামুখী না হয়েও।” -সহীহ বুখারী (১০৯৪), সহীহ মুসলিম (৫৪০), দ্র. মুসনাদে আহমাদ (১৫০৩৮)।


সোজা ও স্বাভাবিকভাবে দাঁড়াতেন। কিয়াম অবস্থায় দৃষ্টি সেজদার স্থানে নিবদ্ধ রাখতেন।


دَخَلَ رَسُولُ اللهُ ‘ الْكَعْبَةَ مَا خَلَفَ بَصَرُهُ مَوْضِعَ سُجُودِهِ حَتَّى خَرَجَ مِنْهَا.


“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবাঘরে প্রবেশ করেন, সেখান থেকে বের হওয়া পর্যন্ত তাঁর দৃষ্টি সেজদার স্থান থেকে সরেনি।” -(হাদীস সহীহ) মুসতাদরাকে হাকেম (১৭৬১), ১/৪৭৯, সহীহ ইবনে খুযায়মা (৩০১২), সুনানে বায়হাকী ৫/১৫৮।


إِنَّ رَسُولَ ‘ كَانَ إِذَا صَلَّى رَفَعَ بَصَرَهُ إِلَى السَّمَاءِ فَنَزَلَتْ {الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ} فَطَأْطَأَ رَأْسَهُ.


“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামায পড়তেন তাঁর দৃষ্টি থাকত আকাশমুখী। এরপর আয়াত নাযিল হলো- “যারা তাদের নামাযে খুশুখুযূ অবস্থায় থাকে।” তখন তিনি দৃষ্টি অবনত করলেন।” -(হাদীস সহীহ) মুসতাদরাকে হাকেম (৩৪৮৩), ২/৩৯৩, সুনানে বায়হাকী ২/২৮৩, যাদুল মাআদ ১/২৫৬।


اجْعَلْ بَصَرَكَ حَيْثُ تَسْجُدُ..


“যেখানে তুমি সেজদা কর তোমার দৃষ্টি সেখানে রাখো।” -(সলিহ) সুনানে বায়হাকী, ২/২৮৪, কানযুল উম্মাল (২০০৯৮), এলাউস সুনান (৬৬৬) ২/১৮৭।



নামাজে খুশু-খুযুঃ 


পূর্ণ একাগ্রতা ও খুশু-খুযূর সাথে নামায আদায় করতেন।


{قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُون}{الَّذِينَ هُمْ فِي صَلاَتِهِمْ خَاشِعُون}


“সফল হয়েছে মুমিনগণ, যারা নামাযে খুশুখুযূ গ্রহণ করে।” -সূরা মুমিনূন, আয়াত: ১-২।


قَالَ رَسُولُ اللهِ ‘:مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لَا يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ..


“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে আমার অযুর মত অযু করে এরপর দুই রাকআত এমন নামায পড়ে, যে নামাযের সময় সে মনে মনে কিছু ভাবেনি, তার পূর্বের সব গোনাহ মাফ করে দেয়া হবে।” -সহীহ বুখারী (১৫৯) সহীহ মুসলিম (২২৬), সুনানে নাসাঈ (১১৬)।


আকাশের দিকে তাকাতে নিষেধ করতেন।


قَالَ النَّبِيُّ ‘:مَا بَالُ أَقْوَامٍ يَرْفَعُونَ أَبْصَارَهُمْ إِلَى السَّمَاءِ فِي صَلَاتِهِمْ، فَاشْتَدَّ قَوْلُهُ فِي ذَلِكَ حَتَّى قَالَ لَيَنْتَهُنَّ عَنْ ذَلِكَ أَوْ لَتُخْطَفَنَّ أَبْصَارُهُمْ.


“ঐ লোকদের কী হলো, যারা নামাযে দৃষ্টিকে উপরের দিকে রাখে! একপর্যায়ে বললেন, হয়ত তারা এ থেকে নিবৃত হবে অথবা তাদের দৃষ্টি কেড়ে নেয়া হবে।” -সহীহ বুখারী (৭৫০), সহীহ মুসলিম (৪২৮, ৪২৯), সুনানে বায়হাকী ২/২৮২।


ডান-বামে না তাকিয়ে স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে থাকতেন।


عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللهِ ‘ عَنِ الِالْتِفَاتِ فِي الصَّلَاةِ، فَقَالَ هُوَ اخْتِلَاسٌ يَخْتَلِسُهُ الشَّيْطَانُ مِنْ صَلَاةِ الْعَبْدِ.


“আয়েশা রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নামাযে ডানে বামে তাকানো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, এটা শয়তানের ছোবল। বান্দার নামায থেকে সে দৃষ্টি টেনে নেয়।” -সহীহ বুখারী (৭৫১) সহীহ ইবনে খুযায়মা (৪৮৪), সুনানে কুবরা-নাসাঈ (৫২৬)।


নামাযে খুশু-খুযূর ব্যাঘাত ঘটায় এমন কাজ থেকে বিরত থাকতেন এবং এমন কোনো উপকরণ থাকলে তা সরিয়ে রাখতে বলেছেন।


أَمِيطِي عَنَّا قِرَامَكِ هَذَا، فَإِنَّهُ لَا تَزَالُ تَصَاوِيرُهُ تَعْرِضُ فِي صَلَاتِي.


“তোমার এই নকশাযুক্ত পর্দা আমাদের থেকে সরিয়ে রাখো। কেননা তার ছবিগুলো নামাযে সামনে এসে যাচ্ছিলো।” -সহীহ বুখারী (৩৭৪), মুসনাদে আহমাদ (১২৫৩১), মুসতাখরাজে আবু আওয়ানাহ (১৪৭৬)।


নামাযের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ কাজ করতে নিষেধ করেছেন। পূর্ণ আদবের সাথে নামায আদায়ের জন্য বলেছেন।


إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ فِى الصَّلاَةِ فَإِنَّهُ يُنَاجِي رَبَّهُ فَلاَ يَبْزُقَنَّ بَيْنَ يَدَيْهِ وَلاَ عَنْ يَمِينِهِ وَلَكِنْ عَنْ شِمَالِهِ تَحْتَ قَدَمِهِ.


“কেউ যখন নামায পড়ে সে তার প্রতিপালকের সাথে একান্তে কথা বলে। সুতরাং (প্রয়োজন হলে) সে যেন সামনে বা ডান দিকে থুথু না ফেলে। বরং বামদিকে পায়ের নীচে থুথু ফেলে।” -সহীহ মুসলিম (৫৫১), সহীহ বুখারী (৪০৫), মুসনাদে আহমাদ (১৩৯১৬)।


নামাযে কথা বলতেন না।


إِنَّ هَذِهِ الصَّلاَةَ لاَ يَصْلُحُ فِيهَا شَىْءٌ مِنْ كَلاَمِ النَّاسِ إِنَّمَا هُوَ التَّسْبِيحُ وَالتَّكْبِيرُ وَقِرَاءَةُ الْقُرْآنِ.


“এই নামাযে মানুষের কোনো কথা চলতে পারে না। নামায তো তাসবীহ তাকবীর ও কুরআন তিলাওয়াত ।” -সহীহ মুসলিম (৫৩৭), মুসনাদে আহমাদ (২৩৭৬২), সুনানে আবু দাউদ (৯৩০)।


প্রয়োজনে নফল নামাযে সঙ্গতিপূর্ণ ইশারায় জবাব দিতেন।


مَرَرْتُ عَلَى رَسُولِ اللهُ ‘ وَهُوَ يُصَلِّي فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَرَدَّ عَلَىَّ إِشَارَةً.


“আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়ে গেলাম। তিনি তখন নামায পড়ছিলেন। আমি তাঁকে সালাম দিলে তিনি ইশারায় আমার সালামের উত্তর দিলেন।” -(সহীহ) সুনানে নাসাঈ (৭৪৮), মুসনাদে আহমাদ (১৮৯৩১), সুনানে আবু দাউদ (৬৯৫)।


তাকবীর-তাহরীমাঃ 


নবীজী স. أَللهُ أَكْبَرُ বলে নামায শুরু করতেন।


كَانَ رَسُولُ اللهُ ‘ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ اسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ، وَقَالَ: اللهُ أَكْبَرُ.


“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাযে দাঁড়াতেন কেবলামুখী হতেন এবং হাত তুলে বলতেন, আল্লাহু আকবার।” -(সহীহ) সুনানে ইবনে মাজাহ (৮০৩)। দ্র. সুনানে তিরমিযী (৩০৪), সুনানে বায়হাকী ২/১৩৭।


أَللهُ أَكْبَرُ 

বলার সময় দুহাতের আঙ্গুলসমূহ খোলা রেখে


كَانَ رَسُولُ اللهِ ‘ إِذَا كَبَّرَ لِلصَّلاَةِ نَشَرَ أَصَابِعَهُ.


“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাযের জন্যে তাকবীর বলতেন তখন আঙ্গুলগুলো খোলা রাখতেন।” -(হাসান) সুনানে তিরমিযী (২৩৯), সহীহ ইবনে খুযায়মা (৪৫৮)।


হাত কানের লতি পর্যন্ত উঠাতেন।


كَانَ إِذَا كَبَّرَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِىَ بِهِمَا أُذُنَيْهِ، وفي رواية: حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا فُرُوعَ أُذُنَيْهِ.


“তিনি যখন তাকবীর বলতেন দু’হাত উঠিয়ে কানের বরাবর করতেন। এক বর্ণনামতে, তিনি দু’হাত কানের লতির বরাবর করতেন।” -সহীহ মুসলিম, (৩৯১), সুনানে আবু দাউদ (৭৪৫), সুনানে দারিমী (১২৫১)।


এবং ডান হাত দিয়ে বাম হাতের কব্জি ধরে নাভির নিচে রাখতেন।


قَالَ وَائِلٌ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللهُ ‘ إِذَا كَانَ قَائِمًا فِي الصَّلَاةِ قَبَضَ بِيَمِينِهِ عَلَى شِمَالِهِ.


“ওয়াইল রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নামাযে দেখেছি, ডান হাত দিয়ে তিনি বাম হাত ধরে রেখেছেন।” -(সহীহ) সুনানে নাসাঈ (৮৮৭), দ্র. মুসনাদে আহমাদ (২১৯৭৪), সুনানে তিরমিযী (২৫২), সুনানে ইবনে মাজাহ (৮০৯)।


قَالَ وَائِلٌ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ ‘ يَضَعُ يَمِيْنَهُ عَلَى شِمَالِهِ تَحْتَ السُّرَّةِ..


“ওয়াইল রা. বলেন, আমি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ডান হাত বাম হাতের উপর নাভির নীচে রাখতে দেখেছি।” -(সনদ সহীহ) মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (৩৯৬৯), বিস্তারিত জানতে দেখুন, “আপনার নামায” বইটি।


أَخْذُ الأَكُفِّ عَلَى الأَكُفِّ فِى الصَّلاَةِ تَحْتَ السُّرَّةِ


“(নামাযে হাত রাখার পদ্ধতি হচ্ছে,) (ডান) হাতের তালু (বাম) হাতের তালুর উপর রেখে নাভির নীচে রাখা।” -(হাদীস হাসান) সুনানে আবু দাউদ (৭৫৮), দ্র. নাসবুর রায়াহ ১/৩১৩, আততা’রীফ ওয়ালইখবার ১/১৫৬-১৫৭।


হাদীসটির একজন বর্ণনাকারী আবদুর রহমান ওয়াসেতী। তিনি দূর্বল হলেও অনেক ছেকাহ-নির্ভরযোগ্য রাবী তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী রাহ. তাঁর হাদীসকে হাসান বলেছেন(৭৪১) । হাকেম নিশাপুরী রাহ. তাঁর হাদীসকে সহীহ বলেছেন (দ্র. আলকওলুল মুসাদ্দাদ-ইবনে হাজার রাহ. পৃ.৮২) এছাড়া এ হাদীসটির স্বপক্ষে সালাফের ‘আমল’ ও ‘তালাক্কী’ রয়েছে।


ইমাম বুখারী রাহ. এর উস্তায ইমাম ইসহাক ইবনে রাহূয়া রাহ. বলেছেন, ‘নাভির নিচে হাত রাখার পদ্ধতিটি হাদীসের দিক থেকে অধিক শক্তিশালী এবং বিনয়ের অধিক নিকটবর্তী।’ -আলআওসাত ৩/২৪৩


কিছুক্ষণ নীরব থাকতেন।


إِنَّ رَسُولَ اللهُ ‘ كَانَتْ لَهُ سَكْتَةٌ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلاَةَ.


“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামায শুরু করতেন কিছুসময় নীরব থাকতেন।” -(হাদীস সহীহ) সুনানে নাসাঈ (৮৯৪) দ্র. সহীহ বুখারী (৭৪৪) সহীহ মুসলিম (৫৯৮)।


এই নীরবতার মাঝে ছানা, ‘তাআওউয’ (أعوذ بالله) ও ‘তাসমিয়া’ (بسم الله) পড়তেন।


لَا تَتِمُّ صَلَاةٌ لِأَحَدٍ مِنَ النَّاسِ حَتَّى يَتَوَضَّأَ ثُمَّ يُكَبِّرَ، وَيَحْمَدَ اللهَ عَزَّ وْجَلَّ وَيُثْنِيَ عَلَيْهِ، وَيَقْرَأَ بِمَا شَاءَ مِنَ الْقُرْآنِ.


“কারো নামায পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না সে অযু করে এরপর তাকবীর বলে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র হামদ ও ছানা পাঠ করে এবং কুরআনের যে পরিমাণ ইচ্ছা তিলাওয়াত করে।” -(হাদীস সহীহ) সুনানে আবু দাউদ (৮৫৭), সুনানে নাসাঈ (১১৩৬)। দ্র. সহীহ বুখারী (৭৪৪), সহীহ মুসলিম (৫৯৮)।


ফরয নামাযে সাধারণত এই ছানা পড়তেন,


سُبْحَانَكَ أَللَّهُمَّ وبِحَمْدِكَ، وَتَبَارَكَ اسْمُكَ، وَتَعَالى جَدُّكَ، وَلاَ إلَهَ غَيْرُكَ.

كَانَ النَّبِيُّ ‘ إذَا افْتَتَحَ الصَّلاَةَ قَالَ: سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ....


“নবীজী যখন নামায শুরু করতেন তখন سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ... পড়তেন।” -(হাদীস সহীহ) সুনানে তিরমিযী (২৪২, ২৪৩), সুনানে আবু দাউদ (৭৭৫, ৭৭৬), সুনানে নাসাঈ (৮৯৯)।


আরও কিছু দুআ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো সাধারণত নফল ও তাহাজ্জুদে পড়তেন।


শরহু মাআনিল আছার ১/১৪৫, সুনানে নাসাঈ (৮৯৭), সুনানে দারাকুতনী (১১৩৯), ২/৫৮, সুনানে আবু দাউদ (৭৬৪), যাদুল মাআদ, ১/১৯৯।


এরপর ‘তাআওউয’; সাধারণত এই বাক্যটি أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ নিম্নস্বরে পড়তেন। এছাড়া অন্যান্য বাক্যও বর্ণিত হয়েছে।


{فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ}


“সুতরাং যখন তুমি কুরআন তিলাওয়াত কর তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাও।” -সূরা নাহল, আয়াত: ৯৮। -সহীহ ইবনে খুযায়মা ১/২৪০, মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক (২৫৮৯), আলআওসাত (১২৭৩), যাদুল মাআদ, ১/১৯৯।


পরে ‘তাসমিয়া’ তথা بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ নিম্নস্বরে পড়ে


كَانَ النَّبِيُّ ‘ يَقْرَأُ: { بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ}


“নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিসমিল্লাহ পড়তেন।” -(সহীহ) মুসতাদরাকে হাকেম (৮৪৭), ১/২৩২।


عَنْ أَنَسٍ قَالَ: صَلَّيْتُ خَلْفَ رَسُولِ اللهِ ‘، وَخَلْفَ أَبِي بَكْرٍ، وَعُمَرَ، وَعُثْمَانَ فَكَانُوا لَا يَجْهَرُونَ: بِـ {بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ}


“আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর রা. উমার রা. উসমান রা. এর পেছনে নামায পড়েছি। তাঁরা উচ্চস্বরে বিসমিল্লাহ পড়তেন না।” -(সহীহ) মুসনাদে আহমাদ (১২৮৪৫), সহীহ মুসলিম (৩৯৯), সুনানে তিরমিযী (২৪৪)।


কুরআন তিলাওয়াত করতেন।


اقْرَأْ مَا تَيَسَّرَ مَعَكَ مِنَ القُرْآنِ.


“তোমার যে পরিমাণ কুরআন তিলাওয়াত সহজ হয় তিলাওয়াত কর।” -সহীহ বুখারী (৭৫৭), সহীহ মুসলিম (৩৯৭), সুনানে কুবরা-নাসাঈ (৯৬০)।


إنَّ النَّبِيَّ ‘ وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ كَانُوا يَفْتَتِحُونَ الصَّلَاةَ بالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ.


“নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর রা. ও উমার রা. সূরা ফাতিহা দ্বারা নামায শুরু করতেন।” -সহীহ বুখারী (৭৪৩), সহীহ মুসলিম (৩৯৯)।


নামাজে ক্বিরাতঃ 


জাহরী নামায তথা ফজর, মাগরিব, এশা, জুমআ, দুই ঈদ, ইসতিসকার নামাযে ‘জাহরী কিরাআত’ (উচ্চস্বরে কিরাআত) পড়তেন।


সহীহ বুখারী (১০৬৫ “১০২৪”), সুনানে নাসাঈ (১৪৯৪), সহীহ মুসলিম (৯০১)।


এছাড়া বাকী নামাযে ‘সিররী কিরাআত’ পড়তেন।


সহীহ বুখারী (৭৪৬, ৭৭২), সহীহ মুসলিম (৩৯৬)।


তাহাজ্জুদ ও নফল নামাযে কখনো নিম্নস্বরে


عَنْ عَبْدِ اللهُ بْنِ أَبِى قَيْسٍ قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ : كَيْفَ كَانَتْ قِرَاءَةُ النبٍيِّ ‘ بِاللَّيْلِ، أَكَانَ يُسِرُّ بِالْقِرَاءَةِ يَجْهَرُ؟ فَقَالَتْ: كُلَّ ذَلِكَ قَدْ كَانَ يَفْعَلُ، رُبَّمَا أَسَرَّ بٍالْقِرَاءَةِ وَرُبَّمَا جَهَرَ.


“আবদুল্লাহ বিন আবু কায়স রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাতে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিরাআত কেমন স্বরে হতো? তিনি কি উচ্চস্বরে পড়তেন না নিম্নস্বরে? তিনি বললেন, দুটোই তিনি করতেন। কখনো নিম্নস্বরে পড়তেন, কখনো উচ্চস্বরে।” -(সহীহ) সুনানে তিরমিযী (৪৪৯), সুনানে নাসাঈ (১৬৬২), সহীহ ইবনে খুযায়মা (১১৬০)।


কখনো উচ্চস্বরে কিরাআত পড়তেন।


كَانَتْ قِرَاءَةُ رَسُولِ اللهِ ‘، بِاللَّيْلِ قَدْرَ مَا يَسْمَعُهُ مَنْ فِي الْحُجْرَةِ، وَهُوَ فِي الْبَيْتِ.


“রাতে ঘরে থাকা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তেলাওয়াতের আওয়াজ এ পরিমাণ হতো, যারা হুজরায় থাকত তারা শুনতে পেত।” -(সহীহ) মুসনাদে আহমাদ (২৪৪৬), সুনানে আবু দাউদ (১৩২৭), শামায়েলে তিরমিযী (৩২১)।


كَانَ يَقْرَأُ فِي بَعْضِ حُجَرِهِ فَيَسْمَعُ مَنْ كَانَ خَارِجًا.


“তিনি কোনো কোনো হুজরায় তিলাওয়াত করতেন, তখন বাইরে যারা তারা শুনতে পেত।” -(হাদীস সহীহ) সহীহ ইবনে খুযায়মা (১১৫৭) সুনানে নাসাঈ কুবরা (১৩৪০)।


কেউ কুরআন পড়তে না জানলে শিখা পর্যন্ত নামাযে অন্য দুআ পড়তে বলেছেন।


جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ ‘ فَقَالَ: إِنِّي لَا أَسْتَطِيعُ أَنْ آخُذَ شَيْئًا مِنَ الْقُرْآنِ فَعَلِّمْنِي شَيْئًا يُجْزِئُنِي مِنَ الْقُرْآنِ، فَقَالَ: قُلْ: سُبْحَانَ الله، وَالْحَمْدُ لله، وَلَا إِلَهَ إِلَّا الله، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ.


“নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে একব্যক্তি এসে বললো, আমি কুরআন তিলাওয়াত করতে পারি না। সুতরাং আমাকে এমন কিছু শিক্ষা দিন যা কুরআনের পাঠের পরিবর্তে যথেষ্ট হয়। নবীজী বললেন, তুমি বলো- سُبْحَانَ اللهُ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِا اللهِ ।” -(সনদ হাসান) সুনানে নাসাঈ (৯২৪), মুসনাদে আহমাদ (১৯১৩৮)।


প্রথমে ‘সূরা ফাতিহা’ পড়তেন। প্রত্যেক আয়াত ওয়াক্ফ ও মদের সাথে তিলাওয়াত করতেন।


إنَّ النَّبِيَّ ‘ كانَ يُقَطِّعُ قِرَاءَتَهُ آيَةً آيَةً: {الحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمِينَ}، ثُمَّ يَقِفُ: {الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ} ثُمَّ يَقِفُ.


“নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি আয়াত থেমে থেমে পড়তেন।.....” -(সহীহ) মুসতাদরাকে হাকেম (২৯১০) ২/২৩২। সুনানে আবু দাউদ (৪০০১)।


সূরা ফাতিহা শেষ করে নিম্নস্বরে ‘আমীন’ বলতেন।


{اُدْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً ۚ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ}


“তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ডাকো অনুনয় বিনয় করে ও অনুচ্চস্বরে, নিশ্চয় তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।” -সূরা আরাফ, আয়াত: ৫৫।


إنَّ رَسُولَ اللهُ ‘ قَالَ: إِذَا قَالَ الْإِمَامُ: {غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ}، فَقُولُوا: {آمِينَ}، وَفِيْ رِوَايَةٍ: أَخْفَى بِهَا صَوْتَهُ.


“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন ইমাম {غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ} বলবে তখন তোমরা আমীন বলবে। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তিনি তা নিম্নস্বরে বলেছেন।” -সহীহ বুখারী (৭৮২) সহীহ মুসলিম (৪১৫), মুসনাদে আহমাদ (১৮৮৫৪), মুসতাদরাকে হাকেম ২/২৩২।


كَانَ عُمَرُ وَعَلِيٌّ لَا يَجْهَرَانِ بِــ {بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ}، وَلَا بِالتَّعَوُّذِ، وَلَا بِالتَّأْمِينِ


“হযরত উমার ও আলী রা. ‘বিসমিল্লাহ’, ‘আউযুবিল্লাহ’ ও ‘আমীন’ অনুচ্চস্বরে পড়তেন।” -(হাদীস হাসান) শরহু মাআনিল আছার ১/১৫০। নুখাবুল আফকার, ২/৪৭১। তাহযীবুল আছার-ইবনে জারীর।


قال الإمام الكشميري رحمه الله: ليس في ذخيرة الحديث ما يدل على أن النبي ‘ أمر المأمومين أن يجهروا بها، بل من جهر منهم جهر برأيه.


-ফায়যুল বারী ২/৩৬৬।


তিনি মুক্তাদীকে নির্দিষ্টভাবে ‘সূরা ফাতিহা’ পড়ার আদেশ দেননি, বরং কুরআনে নীরব থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


{ وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ }


“যখন কুরআন তিলাওয়াত করা হয় তখন তা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং চুপ থাকো, যেন রহমত লাভ করো।” -সূরা আরাফ, আয়াত: ২০৪।


إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لَيُؤْتَمَّ بِهِ، فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوْا وَإِذَا قَرَأَ فَأَنْصِتُوْا.


“ইমামকে ইমাম বানানো হয়েছে যেন তার অনুসরণ করা হয়। সুতরাং যখন সে তাকবীর বলে তখন তোমরা তাকবীর বলো। আর যখন সে তিলাওয়াত করে তোমরা মনোযোগের সাথে শোনো।” -(সহীহ) মুসনাদে আহমাদ (৯৪৩৮), সুনানে নাসাঈ (৯২১), সহীহ মুসলিম (৪১১)।


خَطَبَنَا رَسُولُ اللهُ ‘ فَعَلَّمَنَا سُنَّتَنَا وَبَيَّنَ لَنَا صَلَاتَنَا فَقَالَ: إِذَا كَبَّرَ الْإِمَامُ فَكَبِّرُوا، وَإِذَا قَرَأَ فَأَنْصِتُوا


“একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে খুতবা প্রদান করলেন, তিনি আমাদেরকে সুন্নাহ ও নামায শিক্ষা দিলেন। তিনি বললেন, ইমাম যখন তাকবীর বলবে, তোমরাও তখন তাকবীর বলবে। আর ইমাম কিরাআত পড়লে তোমরা নিশ্চুপ থাকবে।” -সহীহ আবু আওয়ানা (১৬৯৭), মুসনাদে আহমাদ (১৯৭২৩), সহীহ মুসলিম (৪০৪)।


নবীজী ﷺ বলেছেন, ‘ইমামের কিরাআত মুক্তাদীর জন্য যথেষ্ট।’


مَنْ صَلَّى خَلْفَ إٍمَامِ فَإِنَّ قِرَاءَةَ الإمَامِ لَهُ قِرَاءَةٌ.


“যে ইমামের পেছনে নামায পড়লো (তার কিরাআত নেই।) কেননা ইমামের কিরাআত তার জন্যে কিরাআত।” -(সহীহ) কিতাবুল আছার-ইমাম আবু হানীফা; বর্ণনা: আবু ইউসুফ রাহ. (১৮০), আলআছার-ইমাম আবু হানীফা; বর্ণনা: মুহাম্মাদ রাহ. (৮৬) ১/১১১। মুসনাদে আহমাদ ইবনে মানী- মুসনাদে আবদুবনু হুমায়দ। দ্র. শায়খ মুহাম্মাদ আওওয়ামাকৃত ‘মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বার’ টীকা (৩৮২৩)।


الْإِمَامُ ضَامِنٌ


(ইমাম মুক্তাদীর যিম্মাদার) -(হাদীস সহীহ) সহীহ ইবনে খুযাইমা (১৫২৯), মুসনাদে আহমাদ (৮৯৭০), সুনানে আবু দাউদ (৫১৭), সুনানে তিরমিযী (২০৭)।


এরপর ‘অন্য সূরা’ তিলাওয়াত করতেন।


إِنَّ النَّبِيَّ ‘ كَانَ يَقْرَأُ فِي الظُّهْرِ فِي الْأُولَيَيْنِ بِأُمِّ الْكِتَابِ وَسُورَتَيْنِ، وَفِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُخْرَيَيْنِ بِأُمِّ الْكِتَابِ، وَيُسْمِعُنَا الْآيَةَ، وَيُطَوِّلُ فِي الرَّكْعَةِ الْأُولَى مَا لَا يُطَوِّلُ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ وَهَكَذَا فِي الْعَصْرِ، وَهَكَذَا فِي الصُّبْحِ.


“নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের প্রথম দু’রাকাতে সূরা ফাতেহা ও দুটি সূরা পড়তেন এবং শেষ দু’রাকাতে সূরা ফাতেহা পড়তেন। তিনি কোনো কোনো আয়াত আমাদের শোনাতেন। তিনি প্রথম রাকআত যতটুকু দীর্ঘ করতেন, দ্বিতীয় রাকআত অতটুকু দীর্ঘ করতেন না। এরূপ করতেন আসরে ও ফজরেও।” -সহীহ বুখারী (৭৭৬, ৭৭৮), সহীহ মুসলিম (৪৫১), মুসনাদে আহমাদ (২২৬১৭)।


নবীজী ﷺ এর নামাযে কুরআন তিলাওয়াতের পরিমাণ সর্বদা এক রকম হতো না। মুকীম অবস্থায় সাধারণত মাঝারি সূরা তিলাওয়াত করতেন, কখনো লম্বা কখনো ছোট সূরাও তিলাওয়াত করতেন।


যাদুল মাআদ ১/২০২।


সাধারণত এক রাকআতে এক সূরা পড়তেন। কখনো দুই বা ততোধিক সূরাও পড়তেন।


قَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ: لَقَدْ عَرَفْتُ النَّظَائِرَ الَّتِي كَانَ النَّبِيُّ ‘ يَقْرُنُ بَيْنَهُنَّ، فَذَكَرَ عِشْرِينَ سُورَةً مِنْ الْمُفَصَّلِ، سُورَتَيْنِ مِنْ آلِ (حم) فِيْ كُلِّ رَكْعَةٍ.


“ইবনে মাসউদ রা. বলেন, পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ যে সূরাগুলো নবীজী মিলিয়ে পড়তেন সেগুলো আমার জানা আছে। এরপর তিনি মুফাসসাল এর বিশটি সূরা এবং আলিফ-লাম (হা-মীম) এর দুটি সূরা উল্লেখ করেন, প্রতি রাকাতে।” -সহীহ বুখারী (৭৭৫), সহীহ মুসলিম (৮২২)।


আবার কখনো এক সূরা দিয়ে দু’রাকআত আদায় করতেন।


إِنَّ رَجُلاً مِنْ جُهَيْنَةَ أَخْبَرَهُ: أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِىَّ ‘ يَقْرَأُ فِى الصُّبْحِ {إِذَا زُلْزِلَتِ الأَرْضُ} فِى الرَّكْعَتَيْنِ كِلْتَيْهِمَا.


“জুহায়না গোত্রের এক ব্যক্তি তাকে জানিয়েছে, তিনি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ফজরের উভয় রাকাতে{إِذَا زُلْزِلَتِ الأَرْضُ} পড়তে শুনেছেন।” -(সহীহ) সুনানে আবু দাউদ (৮১৬), সুনানে বায়হাকী ২/৩৯০।


ফজরে সাধারণত ‘তিওয়ালে মুফাস্সাল’ (সূরা হুজুরাত থেকে সূরা বুরূজ) এর কোনো একটি সূরা পড়তেন।


وَيَقْرَأُ فِى الْمَغْرِبِ بِقِصَارِ الْمُفَصَّلِ وَيَقْرَأُ فِى الْعِشَاءِ بِوَسَطِ الْمُفَصَّلِ وَيَقْرَأُ فِى الصُّبْحِ بِطُوَلِ الْمُفَصَّلِ.


“তিনি মাগরিবে কিসারে মুফাসসাল থেকে তিলাওয়াত করতেন, এশায় আওসাতে মুফাসসাল থেকে তিলাওয়াত করতেন, ফজরে তিওয়ালে মুফাসসাল থেকে তিলাওয়াত করতেন।” -(সহীহ) সুনানে নাসাঈ (৯৮২), মুসনাদে আহমাদ (৭৯৭৮), সহীহ ইবনে হিব্বান (১৮৩৭)।


যা সাধারণত ষাট থেকে একশত আয়াত পর্যন্ত দীর্ঘ হতো।


وَكَانَ يَقْرَأُ فِيْ الرَّكْعَتَيْنِ أَوْ إِحْدَاهُمَا مَا بَيْنَ السِّتِّيْنَ إِلَى الْمِئَةِ.


“তিনি দুই রাকআত বা এক রাকাতে ষাট থেকে একশ আয়াতের মাঝামাঝি পরিমাণ তিলাওয়াত করতেন।” -সহীহ বুখারী (৭৭১) সহীহ মুসলিম (৪৬১)।


অনেক সময় আরও লম্বা সূরাও পড়তেন। মাঝে মাঝে সূরা ‘তাকভীর’ তিলাওয়াত করতেন।


সুনানে নাসাঈ (৯৫১), সহীহ মুসলিম (৪৫৬)।


জুমআর দিন সূরা ‘সাজদা’ এবং ‘দাহার’ তিলাওয়াত করতেন।


সহীহ মুসলিম (৮৮০), মুসনাদে আহমদ (১০১০২)।


সফরে কখনো সূরা ‘ফালাক’ ও ‘নাস’ তিলাওয়াত করেও নামায শেষ করেছেন।


সুনানে নাসাঈ (৯৫২), যাদুল মাআদ, ১/২০২।


যোহরের নামাযে সাধারণত ত্রিশ আয়াত পড়তেন।


সহীহ মুসলিম (৪৫২), সহীহ ইবনে হিব্বান (১৮২৮), সুনানে নাসাঈ (৪৭৫)।


কখনো যোহর ও আসরের প্রথম রাকআতে দীর্ঘ কিরাআত পড়তেন।


সহীহ বুখারী (৭৫৯)।


আছরের নামাযে নবীজী ﷺ কখনো ‘সূরা-সাব্বিহিসমা’ ও ‘সূরা গাশিয়া’ পড়তেন।


সহীহ মুসলিম (৪৫৯), মুসনাদে বাযযার (৪৪১১)।


কখনো ‘সূরা বুরূজ’ ও ‘সূরা তারিক’ পড়তেন।


সুনানে তিরমিযী (৩০৭) সুনানে আবু দাউদ (৮০৫)।


মাগরিবে ‘কিসারে মুফাস্সাল’ (সূরা বায়্যিনাহ থেকে সূরা নাস) এর কোনো একটি সূরা পড়তেন। মাঝে মাঝে বড় কোনো সূরা পড়তেন এবং অন্যান্য সূরাও পড়তেন।


সহীহ বুখারী (৭৬৫), সহীহ মুসলিম (৪৬৩), মুসনাদে আহমাদ (১৬৭৩৫), শরহু মাআনিল আছার ১/১৫৭, যাদুল মাআদ ১/২০৪।


এশায় সাধারণত ‘আওসাতে মুফাস্সাল’ (সূরা বুরূজ থেকে সূরা বায়্যিনাহ) থেকে পড়তেন। কখনো সূরা গাশিয়া, শাম্স, আ’লা, আলাক পড়তেন।


সহীহ বুখারী (৬১০৬, ৭০৫), সহীহ মুসলিম (৪৬৫), সুনানে ইবনে মাজাহ (৮৩৬)।


সফরে কখনো সূরা তীন পড়তেন।


সহীহ বুখারী (৭৬৭), সহীহ মুসলিম (৪৬৪)।


বিতিরে সাধারণত প্রথম রাকআতে সূরা ‘আলা’, দ্বিতীয় রাকআতে সূরা ‘কাফিরূন’, তৃতীয় রাকআতে সূরা ‘ইখলাস’ পড়তেন।


সুনানে নাসাঈ (১৭০২), মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (৬৯৪৩)।


কখনো এর সাথে সূরা ‘ফালাক’ ও ‘নাস’ও পড়তেন।


সুনানে তিরমিযী (৪৬৩)।


কখনো বড় সূরা তিলাওয়াত করতেন।


সুনানে নাসাঈ (১৭২৮)।


জুমআ ও ঈদে সাধারণত সূরা আ’লা ও সূরা গাশিয়া পড়তেন।


সহীহ মুসলিম (৮৭৮), সুনানে আবু দাউদ (১১২২), সুনানে নাসাঈ (১৫৬৮)।


কখনো কখনো জুমআতে সূরা ‘জুমআ’ ও ‘মুনাফিকূন’ পড়তেন। ঈদের নামাযে সূরা ‘ক্বাফ’ ও ‘ইকতারাবাত’ বা সূরা ‘আলা’ ও ‘গাশিয়া’ পড়তেন।


সহীহ মুসলিম (৮৭৭, ৮৯১) সুনানে নাসাঈ (১৫৬৭, ১৪২১)।


কোনো সূরাকে নির্দিষ্ট করে পড়তেন না। তবে সময়ে সময়ে বিশেষ কিছু সূরা পড়তেন।


  عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ ، أَنَّهُ قَالَ: مَا مِنَ الْمُفَصَّلِ سُورَةٌ صَغِيرَةٌ وَلاَ كَبِيرَةٌ إِلاَّ وَقَدْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ‘ يَؤُمُّ النَّاسَ بِهَا فِى الصَّلاَةِ الْمَكْتُوبَةِ.

  

“আমর বিন শুআইব বাবার সূত্রে দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ফরজ নামাযের ইমামতির সময় ‘মুফাসসাল’ এর ছোট বড় সকল সূরাই পড়তে শুনেছি।” -(হাদীস হাসান) সুনানে আবু দাউদ (৮১৪), সুনানে বায়হাকী ২/৩৮৮।


নবীজী ﷺ তাহাজ্জুদ ও নফল নামাযে সাধারণত ‘লম্বা লম্বা সূরা’ পড়তেন।


عَنْ عَبْدِ الله  قَالَ:صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ ‘ لَيْلَةً، فَلَمْ يَزَلْ قَائِمًا حَتَّى هَمَمْتُ بِأَمْرٍ سُوْءٍ، قُلْنَا: وَمَا هَمَمْتَ؟ قَالَ: هَمَمْتُ أَنْ أَقْعُدَ وَأَذَرَ النَّبِيَّ ‘.


“আবদুল্লাহ রা. বলেন, আমি নবীজীর পেছনে নামায পড়লাম। তিনি দাঁড়িয়েই থাকলেন, একসময় আমি একটি মন্দ বিষয়ের ইচ্ছা করলাম। আমরা বললাম, কী সে মন্দ বিষয়? তিনি বললেন, নবীজীকে ছেড়ে আমি বসে থাকব।” -সহীহ বুখারী (১১৩৫) সহীহ মুসলিম (৭৭৩), সহীহ ইবনে হিব্বান (২১৪১)।


কখনো এক আয়াত বারবার পড়তে থাকতেন।


মুসনাদে আহমাদ (১১৫৯৩), সুনানে ইবনে মাজাহ (১৩৫০)।


তারতীলের সাথে তিলাওয়াত করতেন।


  { وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلاً}

  

“ধীরস্থিরভাবে কুরআন তিলাওয়াত  কর।” -সূরা মুয্যাম্মিল, আয়াত: ৪।


وَكَانَ يَقْرَأُ بِالسُّورَةِ فَيُرَتِّلُهَا حَتَّى تَكُونَ أَطْوَلَ مِنْ أَطْوَلَ مِنْهَا.


“তিনি সূরা পড়তেন ধীরে ধীরে স্পষ্টভাবে, ফলে সূরা তাঁর তিলাওয়াত  হতো দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর।” -সহীহ মুসলিম (৭৩৩), সুনানে তিরমিযী (৩৭৩)।


সুমধুর সুরে তিলাওয়াত করতেন।


مَا أَذِنَ اللهُ لِشَىْءٍ مَا أَذِنَ لِنَبِىٍّ حَسَنِ الصَّوْتِ يَتَغَنَّى بِالْقُرْآنِ يَجْهَرُ بِهِ.


“আল্লাহ অত সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন না, যত সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন সুকণ্ঠ কোনো নবীর প্রতি, যিনি সুর দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত  করেন এবং সশব্দে তিলাওয়াত  করতে থাকেন।” -সহীহ মুসলিম (৭৯২), সহীহ বুখারী (৫০২৪), সুনানে কুবরা-নাসাঈ (১০৯১)।


অন্যদেরকেও শুদ্ধ ও সুমধুর সুরে তিলাওয়াত করতে বলেছেন।


زَيِّنُوا الْقُرْآنَ بِأَصْوَاتِكُمْ.


“তোমাদের সুন্দর সুর দিয়ে কুরআনকে সজ্জিত কর।” -(সনদ সহীহ) সুনানে আবু দাউদ (১৪৬৮), মুসনাদে আহমাদ (১৮৪৯৪), সুনানে কুবরা-নাসাঈ (৮০৫০)।


নামাযে কুরআন তিলাওয়াতরত অবস্থায় আবেগাপ্লুত হয়ে কখনো অশ্রুসিক্ত হতেন।


  قَالَ عَبدُ اللهِ بنُ شِخّير: رَأَيْتُ رَسُولَ اللهُ ‘ وَهُوَ يُصَلِّي وَفِي صَدْرِهِ أَزِيزٌ كَأَزِيزِ الْرُّحَى مِنَ الْبُكَاءِ.

  

“আবদুল্লাহ ইবনে শিখখীর রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নামায পড়তে দেখেছি। তখন কান্নার কারণে তাঁর বুকে চাকতির আওয়াজের মত আওয়াজ হচ্ছিলো।” -(সহীহ) সুনানে আবু দাউদ (৯০৪), মুসনাদে আহমাদ (১৬৩১২, ১৬৩২৬)।


তিলাওয়াতের মাঝে রহমতের আয়াত এলে রহমত প্রার্থনা করতেন। এবং আযাবের আয়াত এলে আযাব থেকে পানাহ চাইতেন।


  عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ ‘ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَافْتَتَحَ الْبقرةَ،... وَكَانَ إِذَا مَرَّ بِآيَةِ رَحْمَةٍ سَأَلَ، وَإِذَا مَرَّ بِآيَةِ عَذَابٍ تَعَوَّذَ.

  

“হুযায়ফা রা. বলেন, আমি একরাতে নবীজীর সাথে নামায পড়েছি। তিনি সূরা বাকারা সূরা শুরু করলেন। যখন রহমতের আয়াত তিলাওয়াত  করতেন রহমত লাভের দোয়া করতেন। যখন আযাবের আয়াত তিলাওয়াত  করতেন পানাহ চাইতেন।” -(সহীহ) সহীহ ইবনে খুযায়মা (৫৪২), সহীহ মুসলিম (৭৭২)।


সুন্নাত নামাযে সাধারণত ‘ছোট সূরা’ পড়তেন।


عَنِ ابْنِ مَسْعُوْدٍ  قَالَ: مَا أُحْصِي مَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللهُ ‘ يَقْرَأُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلاةِ الْفَجْرِ، وَفِي الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ بِـــ قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ وَ قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ.


“ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ফজরের পূর্বের দু’রাকাতে এবং মাগরিবের পরের দু’রাকাতে সূরা কাফীরুন ও সূরা ইখলাস পড়তে কতবার শুনেছি, আমি গুনতে পারব না।” -(হাসান) সুনানে তিরমিযী (৪৩১), সুনানে নাসাঈ (৯৯২), মুসনাদে আবু ইয়ালা (৫০৪৯)।


কখনো এক রাকআতে এক আয়াত পড়তেন।


وَكَانَ رَسُولُ الله ‘ يَقْرَأُ فِى رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ {قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا} وَالَّتِى فِى آلِ عِمْرَانَ {تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ}.

ফজরের দুই রাকাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম {قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا} এবং সূরা আল ইমরানের {تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ} অংশ তিলাওয়াত  করতেন।” -সহীহ মুসলিম (৭২৭), সুনানে আবু দাউদ (১২৬০), রিয়াযুস সালেহীন (১১০৭)।


তিলাওয়াতে ভুল হলে লোকমা দিতে বলেছেন।


  عَنْ مِسْوَرِ بْنِ يَزِيدَ الأَسَدِىِّ قَالَ: شَهِدْتُ رَسُولَ ‘ يَقْرَأُ فِى الصَّلاَةِ فَتَرَكَ شَيْئًا لَمْ يَقْرَأَهُ، فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ الله تَرَكْتَ آيَةَ كَذَا وَكَذَا، فَقَالَ رَسُولُ الله ‘:فَهَلاَّ أَذْكَرْتَنِيهَا.

  

“মিসওয়ার ইবনে ইয়াযীদ আসাদী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, নামাযে তিলাওয়াত  করলেন। তিনি কিছু অংশ ছেড়ে গেলেন, যা তিনি পড়েননি। এরপর একব্যক্তি তাঁকে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি অমুক অমুক আয়াত ছেড়ে গেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি আমাকে তা স্মরণ করিয়ে দিতে!” -(হাদীস হাসান) সুনানে আবু দাউদ (৯০৭), সহীহ ইবনে খুযায়মা (১৬৪৮), সহীহ ইবনে হিব্বান (২২৪০)।


তিলাওয়াতের মাঝে সেজদার আয়াত এলে সেজদা করতেন।


  عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ: سَجَدْنَا مَعَ النَّبِيِّ ‘ فِى {إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ} وَ {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ}

  

“আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সূরা ইনশিক্বাক্ব ও সূরা আলাকের সেজদায় সেজদা করেছি।” -সহীহ মুসলিম (৫৭৮), সুনানে আবু দাউদ (১৪০৭)।


প্রত্যেক নামাযের প্রথম রাকআত দ্বিতীয় রাকআতের তুলনায় লম্বা করতেন।


إِنَّ النَّبِيَّ ‘ كَانَ يُطَوِّلُ فِي الرَّكْعَةِ الْأُولَى مِنْ صَلَاةِ الظُّهْرِ، وَيُقَصِّرُ فِي الثَّانِيَةِ، وَيَفْعَلُ ذَلِكَ فِي صَلَاةِ الصُّبْحِ.


“নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের প্রথম রাকাতে কিরাআত লম্বা করতেন আর দ্বিতীয় রাকাতে সংক্ষিপ্ত করতেন। ফজরের নামাযেও এমন করতেন।” -সহীহ বুখারী (৭৫৯, ৭৭৯), দ্র. (৭৭০), সহীহ মুসলিম (৪৫১), মুসনাদে আহমাদ (১৯৪১৮)।


বিশেষত ফজরের নামাযে।


যাদুল মাআদ ১/২০৮।


নবীজী ﷺ ইমাম হলে মুক্তাদীর প্রতি খেয়াল রাখতেন। প্রয়োজনে তিলাওয়াত সংক্ষেপ করতেন এবং দ্রুত নামায শেষ করতেন। কেউ ইমাম হলে তাকেও এরূপ করার উপদেশ দিতেন।


إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ لِلنَّاسِ فَلْيُخَفِّفْ، فَإِنَّ مِنْهُمْ الضَّعِيفَ وَالسَّقِيمَ وَالْكَبِيرَ، وَإِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ لِنَفْسِهِ فَلْيُطَوِّلْ مَا شَاءَ.


“যখন কেউ লোকদের নিয়ে নামায পড়ে সে যেন অন্য সময়ের তুলনায় সংক্ষিপ্ত কেরাতের নামায পড়ে। কেননা তাদের মধ্যে দুর্বল অসুস্থ ও বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি রয়েছে। আর যখন নিজে নিজে নামায পড়ে তখন যত ইচ্ছা দীর্ঘ নামায পড়ুক।” -সহীহ বুখারী (৭০৩), সহীহ মুসলিম (৪৬৭), মুওয়াত্তা মালেক (৩৫৫)।


নামাজে রুকুঃ 


নবীজী ﷺ কিরাআত শেষ করার পর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে রুকূতে যেতেন।


كَانَ رَسُولُ اللهِ ‘ يُكَبِّرُ فِي كُلِّ خَفْضٍ وَرَفْعٍ وَقِيَامٍ وَقُعُودٍ وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ.


“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি উঠা-বসায় তাকবীর বলতেন। আবু বকর ও উমারও অনুরূপ করতেন।” -(সহীহ) সুনানে তিরমিযী (২৫৩), মুসনাদে আহমাদ (৩৬৬০), সুনানে নাসাঈ (১১৪২)।


يُكَبِّرُ حِينَ يَرْكَعُ.


“রুকূতে যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন।” -সহীহ বুখারী (৭৮৯), সহীহ মুসলিম (৩৯২), মুসনাদে আহমাদ (৯৮৫১)।


স্বাভাবিক ও ধীরস্থিরতার সাথে রুকূ করার প্রতি গুরুত্ব দিতেন।


اعْتَدِلُوا فِى الرُّكُوعِ


“রুকূতে স্থির থাকো” -(সহীহ) সুনানে নাসাঈ (১০২৭), সুনানে দারিমী (১৩২২), সুনানে কুবরা-নাসাঈ (১১০২)।


রুকূর পূর্বে হাত উঠাতেন না।


عَنْ ابن مسعود قَالَ: ألا أُرِيكُمْ صَلاةَ رَسُولِ اللهِ ‘ فَرَفَعَ يَدَيْهِ فِي أَوَّلِ تَكْبِيرَةٍ ثٌمَّ لَمْ يُعِدْ.


“ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কি তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামায দেখাব না? তিনি প্রথম তাকবীরের সময় হাত তুললেন। এরপর আর হাত তুলেননি। -(সহীহ) সুনানে নাসাঈ (১০২৬), মুসনাদে আহমাদ (৩৬৮১), মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (২৪৫৬), মুসনাদে আবি ইয়ালা (২৩০২), সুনানে তিরমিযী (২৫৭), সুনানে আবু দাউদ (৭৪৮), সুনানে বায়হাকী ২/৭৮।


إِنَّ ‘ كَانَ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ رَفَعَ يَدَيْهِ إِلَى قَرِيبٍ مِنْ أُذُنَيْهِ، ثُمَّ لَا يَعُودُ.


“নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামায শুরু করতেন, কানের কাছাকাছি হাত উঠাতেন, তারপর আর হাত উঠাতেন না।” -(হাদীস সহীহ) সুনানে আবু দাউদ (৭৫০), মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (২৪৫৫), শরহু মাআনিল আছার ১/১৬২, দ্র. কুরআন-সুন্নাহর আলোকে আপনার নামায পৃ. ৩৫৬-৩৬১


রুকূতে হাতের আঙ্গুল ফাঁকা করে এমনভাবে হাঁটুতে রাখতেন যেন তা ধরে রেখেছেন।


كَانَ إِذَا رَكَعَ فَرَّجَ أَصَابِعَهُ، وَإِذَا سَجَدَ ضَمَّ أَصَابِعَهُ.


“যখন রুকূতে যেতেন আঙ্গুলগুলো ফাঁকা ফাঁকা করে রাখতেন, যখন সেজদায় যেতেন আঙ্গুলগুলো মিলিয়ে রাখতেন।” -সহীহ ইবনে হিব্বান (১৯২০), সহীহ ইবনে খুযায়মা (৫৯৪), মুসতাদরাকে হাকেম (৮১৪) ১/২২৪।


দু’হাত সোজা রাখতেন ধনুকের তীরের ন্যায়। হাত পাঁজর থেকে পৃথক রাখতেন।


ثُم رَكَعَ فَوَضَعَ يَدَيهِ عَلى رُكْبَتَيهِ كَأَنَّه قابِضٌ عَلَيْهِمَا، وَوَتَّرَ يَدَيهِ فَتَجَافى عَنْ جَنبَيهِ.


“এরপর তিনি রুকূ করলেন। হাত রাখলেন হাঁটুর উপর যেন তিনি হাঁটু ধরে রেখেছেন। হাতকে ধনুকের তীরের মত সোজা রাখলেন, ফলে তা দু’পাশ থেকে দূরে থাকলো।” -(হাদীস সহীহ) সুনানে আবু দাউদ (৭৩৪), সুনানে তিরমিযী (২৬০), শরহু মাআনিল আছার ১/১৬৫।


পিঠ ও কোমর এমনভাবে সমান করে বিছিয়ে দিতেন যেন পিঠে পানি ঢাললেও তা স্থির থাকবে।


عَنْ وَابِصَةَ بْنِ مَعْبَدٍ يَقُولُ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ‘ يُصَلِّي، فَكَانَ إِذَا رَكَعَ سَوَّى ظَهْرَهُ، حَتَّى لَوْ صُبَّ عَلَيْهِ الْمَاءُ لَاسْتَقَرَّ.


“ওয়াবিসা ইনে মা’বাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নামায পড়তে দেখেছি। তিনি রুকূ করে পিঠ এমনভাবে সোজা করলেন, যদি পিঠে পানি ঢালা হতো তাহলে তা স্থির থাকতো।” -(সহীহ) সুনানে ইবনে মাজাহ (৮৭২) দ্র. সহীহ মুসলিম (৪৯৮), সুনানে আবু দাউদ (৭৮৩)।


রুকূতে সাধারণত سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيْمِ বারংবার পড়তেন।


عَنْ حُذَيْفَةَ: صَلَّيْتُ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ ‘، فَرَكَعَ فَقَالَ فِيْ رُكُوْعِهِ: سُبْحَانَ رَبِّي الْعَظِيمِ، وَفِيْ سُجُوْدِهِ: سُبْحَانَ رَبِّي الْأَعْلىَ.


“হুযায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নামায পড়েছি। তিনি রুকূতে গিয়ে سُبْحَانَ رَبِّي الْعَظِيمِ، পড়লেন, আর সেজদায় গিয়ে পড়লেন سُبْحَانَ رَبِّي الْأَعْلىَ. ।” -(সহীহ) সুনানে নাসাঈ (১০৪৬), সহীহ মুসলিম (৭৭২), মুসনাদে আহমাদ (৩৫১৪)।


কখনো তিনবার পড়তেন।


إذَا رَكَعَ أَحَدُكُمْ، فَقَالَ فِي رُكُوْعِهِ: سُبْحَانَ رَبِّي الْعَظِيمِ، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، فَقَدْ تَمَّ رُكُوعُهُ وَذَلِكَ أَدْنَاهُ.


“কেউ যখন রুকূ করে রুকূতে سُبْحَانَ رَبِّي الْعَظِيمِ তিনবার পড়ে, তার রুকূ পূর্ণ হয় এবং তিনবার হলো সর্বনিম্ন তাসবীহ।” -(হাদীস হাসান) সুনানে তিরমিযী (২৬১), সুনানে আবু দাউদ (৮৮৬), সুনানে ইবনে মাজাহ (৮৯০), শরহু মাআনিল আছার ১/১৬৯।


নফল নামাযে আরও লম্বা লম্বা দুআ ও বিভিন্ন তাসবীহ পড়তেন।


-সহীহ বুখারী (৭৯৪), সহীহ মুসলিম (৪৮২, ৪৮৩, ৪৮৪), সুনানে আবু দাউদ (৮৭৭), সুনানে নাসাঈ (১০৪৭) যাদুল মাআদ ১/২১১।


রুকূ ও সেজদায় কুরআন পড়তে নিষেধ করেছেন।


أَلاَ وَإِنِّى نُهِيتُ أَنْ أَقْرَأَ الْقُرْآنَ رَاكِعًا أَوْ سَاجِدًا.


“জেনে রাখো! রুকূ ও সেজদায় কুরআন পড়তে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে।” -সহীহ মুসলিম (৪৭৯), সুনানে নাসাঈ (১০৪৫), সহীহ ইবনে হিব্বান (৬০৪৫)।


নবীজী ﷺ শান্ত ও সুন্দরভাবে রুকূ আদায় করতেন। নামাযের কোনো আমলেই ‘তাড়াহুড়া’ করতেন না। এবং সাহাবা কেরামকেও তাড়াহুড়া করতে নিষেধ করেছেন।


ثُمَّ ارْكَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ رَاكِعًا.


“এরপর রুকূ করে রুকূ অবস্থায় স্থির হও।” -সহীহ বুখারী (৭৫৭), সহীহ মুসলিম (৩৯৭), মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (১৯৭৫)।


قَالَ رَسُولُ اللهِ ‘ أَسْوَأُ النَّاسِ سَرِقَةً الَّذِي يَسْرِقُ مِنْ صَلَاتِهِ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، وَكَيْفَ يَسْرِقُ مِنْ صَلَاتِهِ؟ قَالَ: لَا يُتِمُّ رُكُوعَهَا وَلَا سُجُودَهَا أَوْ قَالَ: لَا يُقِيمُ صُلْبَهُ فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ.


“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিকৃষ্ট চোর হলো যে নামাযে চুরি করে। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, ব্যক্তি নামাযে কীভাবে চুরি করে? তিনি বললেন, রুকূ সেজদা পরিপূর্ণভাবে করে না অথবা বলেছেন, রুকূ সেজদায় পিঠ সোজা করে না।” -(সহীহ) মুসনাদে আহমাদ (২২৬৪২), সহীহ ইবনে খুযায়মা (৬৬৩)। দ্র. সহীহ বুখারী (৬৬৪৪), সহীহ মুসলিম (১১১)।


এরপর سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলে রুকূ থেকে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন।


ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَعْتَدِلَ قَائِمًا.


“এরপর মাথা তুলে সোজা হয়ে দাঁড়াও।” -সহীহ বুখারী (৭৯৩), সহীহ মুসলিম (৩৯৭), সুনানে আবু দাউদ (৮৫৬)


ثُمَّ يَقُولُ: سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ حِينَ يَرْفَعُ صُلْبَهُ مِنْ الرَّكْعَةِ، ثُمَّ يَقُولُ وَهُوَ قَائِمٌ: رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ، وفي رواية: رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ.


“এরপর তিনি বলতেন سَمِعَ اللهِ لِمَنْ حَمِدَهُ যখন তিনি রুকূ পিঠ তুলতেন। এরপর দাঁড়ানো অবস্থায় বলতেন, رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ অন্য বর্ণনামতে, رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ।” -সহীহ বুখারী (৭৮৯), সহীহ মুসলিম (৩৯২), মুসনাদে আহমাদ (৯৮৫১)।


দাঁড়িয়ে সোজা হয়ে তারপর সেজদায় যেতেন।


ثُمَّ ارْكَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ رَاكِعًا ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَعْتَدِلَ قَائِمًا.


“এরপর রুকূ করে স্থির হও। এরপর মাথা তুলে সোজা হয়ে দাঁড়াও।” -সহীহ বুখারী (৭৯৩), সহীহ মুসলিম (৩৯৭), মুসনাদে আহমাদ (৯৬৩৫)।


وَكَانَ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ لَمْ يَسْجُدْ حَتَّى يَسْتَوِيَ قَائِمًا.


“তিনি রুকূ থেকে মাথা তুললে সোজা হয়ে দাঁড়ানো পর্যন্ত সেজদায় যেতেন না।” -সহীহ মুসলিম (৪৯৮), সুনানে আবু দাউদ (৭৮৩), মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক (২৮৭৩)।


মুক্তাদীকে رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ বলার আদেশ দিয়েছেন।


وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ.


“যখন ইমাম বলেন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ তোমরা বলো رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ।” -সহীহ বুখারী (৭২২, ৬৮৯), সহীহ মুসলিম (৪১১), মুসনাদে আহমাদ (৭১৪৪)।


নবীজী ﷺ-ও বলতেন। কখনো এরচে’ বড় দুআ পড়তেন।


كَانَ رَسُولُ اللهُ ‘ إِذَا رَفَعَ ظَهْرَهُ مِنَ الرُّكُوعِ قَالَ: سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ اللّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَاوَاتِ وَمِلْءَ الأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ.


“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ থেকে পিঠ তোলার সময় বলতেন, سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ... ” -সহীহ মুসলিম (৪৭৬) সুনানে আবু দাউদ (৮৪৬) দ্র. সহীহ বুখারী (৭৯৯)।


বড় বড় দুআগুলো সাধারণত নফল ও তাহাজ্জুদে পড়তেন।


সুনানে নাসাঈ (১০৬৯, ১১৪৫), যাদুল মাআদ, ১/২১১।


এবং রুকূ থেকে উঠে বিলম্ব করতেন।


সহীহ বুখারী (৮২১) সহীহ মুসলিম (৪৭২)।


সাহাবা কেরাম জামাআতে নামাযরত অবস্থায় রুকূ-সেজদা নবীজী ﷺ এর সাথেই করতেন, পূর্বে করতেন না।


عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ: كُنَّا إِذَا صَلَّيْنَا خَلْفَ رَسُولِ اللهِ ‘ فَرَفَعَ رَأْسَهُ مِنْ الرُّكُوعِ لَمْ يَحْنِ رَجُلٌ مِنَّا ظَهْرَهُ حَتَّى يَسْجُدَ رَسُولُ اللهِ ‘ فَنَسْجُدَ.


“বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে আমরা যখন নামায পড়তাম আর তিনি রুকূ থেকে মাথা উঠাতেন আমাদের কেউ পিঠ বাঁকা করত না যতক্ষণ না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেজদায় যেতেন। এরপর আমরা সেজদায় যেতাম।” -(সহীহ) সুনানে তিরমিযী (২৮১), সহীহ বুখারী (৬৯০), সহীহ মুসলিম (৪৭৪)।


নামাজে সিজদাহঃ


নবীজী ﷺ তাকবীর বলে সেজদায় যেতেন।


ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَسْجُدُ (وَفِيْ رِوَايَةٍ: حِيْنَ يَهْوِيْ سَاجِداً)، ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَرْفَعُ رَأْسَهُ ثُمَّ يَفْعَلُ ذَلِكَ فِي الصَّلَاةِ كُلِّهَا حَتَّى يَقْضِيَهَا.


“এরপর সেজদায় যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন (অন্য বর্ণনামতে, যখন সেজদায় নেমে যেতেন), এরপর যখন মাথা উঠাতেন তখন তাকবীর বলতেন। এরপর নামায শেষ করা পর্যন্ত তিনি পুরো নামাযে তাকবীর বলতেন।” -সহীহ বুখারী (৭৮৯), সহীহ মুসলিম (৩৯২), সহীহ ইবনে খুযায়মা (৬২৪)।


ধীরস্থির ও স্বাভাবিকভাবে সেজদা আদায়ের প্রতি গুরুত্ব দিতেন।


اعْتَدِلُوا فِي السُّجُودِ


“সেজদায় স্থির হও।” -সহীহ বুখারী (৮২২), সহীহ মুসলিম (৪৯৩), মুসনাদে আহমাদ (১২০৬৬)।র্


ثُمَّ اسْجُدْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ سَاجِدًا.


“এরপর সেজদা করে স্থির অবস্থায় সেজদা কর।” -সহীহ বুখারী (৭৫৭) , সহীহ মুসলিম (৩৯৭), মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (২৯৭৫)।


সেজদায় যাওয়ার সময় প্রথমে হাঁটু, পরে হাত, এরপর মুখ জায়নামাযে রাখতেন।


إِذَا سَجَدَ يَضَعُ رُكْبَتَيْهِ قَبْلَ يَدَيْهِ، وَإِذَا نَهَضَ رَفَعَ يَدَيْهِ قَبْلَ رُكْبَتَيْهِ.


“যখন সেজদায় যেতেন হাতের পূর্বে হাঁটু রাখতেন। যখন দাঁড়াতেন হাঁটুর পূর্বে হাত উঠাতেন।” -(হাদীস সহীহ) সুনানে তিরমিযী (২৬৮), সুনানে আবু দাউদ (৮৩৮), সহীহ ইবনে খুযায়মা (৬২৬), সহীহ ইবনে হিব্বান (১৯১২)।


رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ‘ كَبَّرَ فَحَاذَى بِإِبْهَامَيْهِ أُذُنَيْهِ، ثُمَّ رَكَعَ حَتَّى اسْتَقَرَّ كُلُّ مَفْصِلٍ مِنْهُ فِى مَوْضِعِهِ، وَرَفَعَ رَأْسَهُ حَتَّى اسْتَقَرَّ كُلُّ مَفْصِلٍ مِنْهُ فِى مَوْضِعِهِ، ثُمَّ انْحَطَّ بِالتَّكْبِيرِ حَتَّى سَبَقَتْ رُكْبَتَاهُ يَدَيْهِ


-(হাসান) সুনানে দারাকুতনী (১৩০৮), মুসতাদরাকে হাকেম ১/২২৬, সুনানে বায়হাকী ২/৯৯, আলআহাদীসুল মুখতারা (২৩১০)।


সেজদায় যাওয়ার সময় কাপড় গুটাতেন না, আপন অবস্থায় ছেড়ে দিতেন।


وَلاَ يَكُفُّ شعْراً وَلاَ ثَوْباً.


“চুল বা কাপড় গুটিয়ে রাখতেন না।” -সহীহ বুখারী (৮০৯), সহীহ মুসলিম (৪৯০), সুনানে আবু দাউদ (৮৮৯)।


সেজদা দু’হাত, দু’হাঁটু, দু’পা এবং মুখ- এই ‘সাত অঙ্গের’ উপর ভর দিয়ে আদায় করতেন।


أُمِرَ النَّبِيُّ ‘ أَنْ يَسْجُدَ عَلَى سَبْعَةِ أَعْضَاءٍ وَلَا يَكُفَّ شَعْرًا وَلَا ثَوْبًا الْجَبْهَةِ وَالْيَدَيْنِ وَالرُّكْبَتَيْنِ وَالرِّجْلَيْنِ.


“নবীজীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সাত অঙ্গ নিয়ে সেজদা করতে, চুল বা কাপড় গুটিয়ে না রাখতে। সাত অঙ্গ হলো কপাল, দু’হাত, দু’হাঁটু ও দু’পা।” -সহীহ বুখারী (৮০৯) সহীহ মুসলিম (৪৯০), সুনানে নাসাঈ (১০৯৩)।


দু’হাতের মাঝখানে নাক ও কপাল ভালোভাবে রাখতেন।


فَلَمَّا سَجَدَ سَجَدَ بَيْنَ كَفَّيْهِ.


“যখন সেজদা করলেন দু’হাতের মাঝে সেজদা করলেন ।” -সহীহ মুসলিম (৪০১), মুসনাদে আহমাদ (১৮৮৬৬), আলমুজামুল কাবীর-তাবারানী ২২/ (৭৫)।


দু’হাতের তালু কান বরাবর রাখতেন।


ثُمَّ سَجَدَ فَجَعَلَ كَفَّيْهِ بِحِذاءِ أُذُنَيْه.


“এরপর তিনি সেজদা করলেন। তখন দুই হাতকে কান বরাবর রাখলেন।” -(সহীহ) সুনানে নাসাঈ (৮৮৯), সহীহ ইবনে হিব্বান (১৮৬০), মুসনাদে আহমাদ (১৮৮৭০)।


হাতের আঙ্গুলগুলো মিলিয়ে কিবলামুখী করে রাখতেন।


كَانَ إِذَا رَكَعَ فَرَّجَ أَصَابِعَهُ، وَإِذَا سَجَدَ ضَمَّ أَصَابِعَهُ.


“যখন তিনি রুকূ করতেন আঙ্গুলগুলো ফাঁকা ফাঁকা করে রাখতেন। আর যখন সেজদা করতেন আঙ্গুলগুলো মিলিয়ে রাখতেন।” -(হাদীস সহীহ) সহীহ ইবনে হিব্বান (১৯২০), সহীহ ইবনে খুযায়মা (৬৪২), মুসতাদরাকে হাকেম (৮২৬) ১/২২৭।


وَإِذَا سَجَدَ وَجَّهَ أَصَابِعَهُ قِبَلَ الْقِبْلَةِ


“তিনি যখন সেজদা করতেন তখন আঙ্গুলগুলো কেবলামুখী করে রাখতেন।” -(হাদীস হাসান) মুসনাদে র্স্রাাজ (৩৫২), সুনানে বায়হাকী ২/১১৩।


দু’পায়ের আঙ্গুল কিবলামুখী করে গোড়ালীদ্বয় দাঁড় করে রাখতেন।


عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: فَوَجَدْتُهُ سَاجِدًا رَاصًّا عَقِبَيْهِ مُسْتَقْبِلاً بِأَطْرَافِ أَصَابِعِهِ لِلْقِبْلَةِ.


“আমি তাঁকে সেজদারত পেলাম, পা দাঁড় করানো, আঙ্গুলগুলো কেবলামুখী।” -(হাদীস সহীহ) সহীহ ইবনে হিব্বান (১৯৩৩), মুসতাদরাকে হাকেম (৮৩২) ১/২২৮।


নবীজী ﷺ হাঁটুর সাথে কনুইকে এবং পাঁজরের সাথে বাহুকে মিলাতেন না, বরং ফাঁকা রাখতেন।


فَإِذَا سَجَدَ وَضَعَ يَدَيْهِ غَيْرَ مُفْتَرِشٍ وَلَا قَابِضِهِمَا.


“তিনি যখন সেজদা করলেন হাত (এমনভাবে) রাখলেন ছড়িয়েও নয়, গুটিয়েও নয়।” -সহীহ বুখারী (৮২৮), সুনানে আবু দাউদ (৭৩২)।


إِذَا سَجَدَ جَافَى عَضُدَيْهِ عَنْ جَنْبَيْهِ.


“যখন সেজদায় গেলেন বাহুদ্বয়কে দু’পাশ থেকে পৃথক রাখলেন।” -(সহীহ) সুনানে আবু দাউদ (৯০০), সুনানে ইবনে মাজাহ (৮৮৬)।


পুরুষদেরকে হাত মাটির সাথে বিছিয়ে রাখতে নিষেধ করেছেন


إِذَا سَجَدْتَ فَضَعْ كَفَّيْكَ وَارْفَعْ مِرْفَقَيْكَ


“যখন সেজদা করবে তখন হাত মাটিতে রাখো এবং কনুই উঁচু করে রাখো।” -সহীহ মুসলিম (৪৯৪), মুসনাদে আহমাদ (১৮৪৯১), সহীহ ইবনে হিব্বান (১৯১৬), সহীহ ইবনে খুযায়মা (৬৫৬)।


اعْتَدِلُوا فِي السُّجُودِ وَلَا يَبْسُطْ أَحَدُكُمْ ذِرَاعَيْهِ انْبِسَاطَ الْكَلْبِ.


“সেজদায় স্থির হও, তোমাদের কেউ যেন কুকুরের মত হাত বিছিয়ে না দেয়।” -সহীহ বুখারী (৮২২) সহীহ মুসলিম (৪৯৩)।


এবং পিঠ সোজা রাখতে বলেছেন।


لاَ تَجْزِئُ صَلاَةٌ لاَ يُقِيمُ فِيْهَا الرَّجُلُ -يَعْنِي- صُلْبَهُ فِى الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ.


“সে নামায সঠিক নয় যে নামাযে (অর্থাৎ রুকূ-সেজদায়) মুসল্লী তার পিঠ সোজা রাখে না।” -(সহীহ) সুনানে তিরমিযী (২৬৫), সহীহ ইবনে খুযায়মা (৫৯১), সহীহ ইবনে হিব্বান (১৮৯২)।


সেজদায় سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلى বারংবার বলতেন।


عَنْ حُذَيْفَةَ: صَلَّيْتُ مَعَ رَسُوْلِ اللّهِ ‘، فَرَكَعَ فَقَالَ فِيْ رُكُوْعِهِ: سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ، وَفِيْ سُجُوْدِهِ: سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلىَ.


“হুযায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নামায পড়েছি। তিনি রুকূতে গিয়ে سُبْحَانَ رَبِّي الْعَظِيمِ، পড়লেন, আর সেজদায় গিয়ে পড়লেন سُبْحَانَ رَبِّي الْأَعْلىَ.” -(সহীহ) সুনানে নাসাঈ (১০৪৬), সহীহ মুসলিম (৭৭২), মুসনাদে আহমাদ (৩৫১৪)।


কখনো তিনবার বলতেন।


وَإِذَا سَجَدَ (أَحَدُكُمْ) فَقَالَ في سُجُودِهِ سُبْحَانَ رَبِّىَ الأَعْلَى ثَلاَثَ مَرَّاتٍ فَقَدْ تَمَّ سُجُودُهُ وَذَلِكَ أَدْنَاهُ.


“কেউ যদি সেজদা করে ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা’ তিনবার বলে তার সেজদা পরিপূর্ণ হয়। এই তিনবার তাসবীহ হলো সর্বনিম্ন তাসবীহ।” -(হাদীস হাসান) সুনানে তিরমিযী (২৬১), সুনানে আবু দাউদ (৮৮৬), সুনানে ইবনে মাজাহ (৮৯০)।


তাহাজ্জুদে কখনো আরও বড় দুআ পড়তেন।


সুনানে নাসাঈ (১১২৮), যাদুল মাআদ ১/৩২০।


সাহাবা কেরামকে গুরুত্বের সাথে সেজদায় দুআ পড়তে বলেছেন।


সহীহ মুসলিম (৪৭৯), সহীহ ইবনে খুযায়মা (৬৬৪), সুনানে নাসাঈ (১০৪৫)।


তাকবীর বলে স্থির হয়ে শান্তভাবে বসতেন।


ثُمَّ اسْجُدْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ سَاجِدًا، ثم ارْفَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ جَالِسًا.


“এরপর তুমি সেজদা করে সেজদা অবস্থায় স্থির হও। এরপর মাথা তুলে স্থির হয়ে বসো।” -সহীহ বুখারী (৭৫৭), সহীহ মুসলিম (৩৯৭), সুনানে তিরমিযী (৩০৩)। 


وَكَانَ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ السَّجْدَةِ لَمْ يَسْجُدْ حَتَّى يَسْتَوِيَ.


“তিনি যখন সেজদা থেকে মাথা তুলতেন সোজা হয়ে বসার পূর্বে সেজদায় যেতেন না।” -সহীহ মুসলিম (৪৯৮), সহীহ মুসলিম (৪৯৮), দ্র. সুনানে আবু দাউদ (৭৮৩)।


সেজদার পূর্বে বা পরে হাত তুলতেন না।


وَلَا يَفْعَلُ ذَلِكَ حِينَ يَسْجُدُ وَلَا حِينَ يَرْفَعُ رَأْسَهُ مِنْ السُّجُودِ.


“সেজদায় যাওয়ার সময় এবং সেজদা থেকে মাথা তোলার সময় তিনি তা করতেন না।” -সহীহ বুখারী (৭৩৮), সহীহ মুসলিম (৩৯০), সুনানে নাসাঈ (৮৭৬)।


প্রথম বৈঠকের মতো বসতেন। অর্থাৎ বাম পা বিছিয়ে ডান পা খাড়া রাখতেন। পায়ের গোড়ালীর উপর বসতে নিষেধ করেছেন।


كَانَ يَنْهَى عَنْ عُقْبَةِ الشَّيْطَانِ


“তিনি পায়ের গোড়ালীর উপর বসতে নিষেধ করেছেন।” -সহীহ মুসলিম (৪৯৮), মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (২৯৫৬), মুসনাদে আহমাদ (২৪০৩০)।র্


لَا تُقْعِ إِقْعَاءَ الْكَلْبِ


“কুকুরের বসার মত বসো না।”


আঙ্গুল কিবলামুখী রাখতেন।


وَكَانَ يَفْرِشُ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَيَنْصِبُ رِجْلَهُ الْيُمْنَى، وَفِى رِوَايَةٍ: وَيَقْعَدُ عَلَيْهَا.


“তিনি বাম পা বিছিয়ে দিতেন আর ডান বা দাঁড় করিয়ে রাখতেন। অন্য বর্ণনায়, তিনি তার উপর বসতেন।” -সহীহ মুসলিম (৪৯৮), সুনানে আবু দাউদ (৭৮৩), মুসনাদে আহমাদ (২৫৬১৭)। দ্র. যাদুল মাআদ ১/২৩০, ২৩৫, সহীহ ইবনে খুযায়মা (৬৭৭)।


قَالَ ابْنُ عُمَرَ: مِنْ سُنَّةِ الصَّلاَةِ أَنْ تَنْصِبَ الْقَدَمَ الْيُمْنَى وَاسْتِقْبَالُهُ بِأَصَابِعِهَا الْقِبْلَةَ وَالْجُلُوسُ عَلَى الْيُسْرَى.


“ইবনে উমার রা. বলেন, নামাযের সুন্নাত হলো ডান পা দাঁড় করে রেখে তার আঙ্গুল কেবলামুখী রাখা এবং বাম পায়ের উপর ভর দিয়ে বসা।” -(সহীহ) সুনানে নাসাঈ (১১৫৮), সহীহ বুখারী (৮২৭)।


দু’হাত দু’পায়ের হাঁটুর কাছাকাছি উরুর উপর রাখতেন


كَانَ إِذَا جَلَسَ فِي الصَّلَاةِ وَضَعَ كَفَّهُ الْيُمْنَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُمْنَى، وَوَضَعَ كَفَّهُ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى. وَفِيْ رِوَايَةٍ: وَوَضَعَ يَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى رُكْبَتِهِ الْيُسْرَى.


“যখন তিনি নামাযে সেজদা করতেন তখন ডান হাত ডান উরুর উপর রাখতেন আর বাম হাত বাম উরুর উপর রাখতেন। অন্য বর্ণনায়, বাম হাত বাম হাঁটুর উপর রাখতেন।” -সহীহ মুসলিম (৫৮০, ৫৭৯), মুয়াত্তা মুহাম্মাদ (১৪৫) ১/২২৮, সুনানে নাসাঈ (১২৬৭), মুসনাদে আহমাদ (৫৩৩১)।


এবং প্রথম সেজদার মতো দ্বিতীয় সেজদা আদায় করতেন।নফল নামাযে দু’সেজদার মাঝখানে নবীজী ﷺ দুআ পড়তেন।


إِنَّ رَسُولَ اللهِ ‘ قَالَ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ فِي صَلاةِ اللَّيْلِ: رَبِّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَارْفَعْنِي، وَارْزُقْنِي، وَاهْدِنِي ثُمَّ سَجَدَ.


“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের নামাযে দু’সেজদার মাঝের বৈঠকে বলতেন, رَبِّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَارْفَعْنِي، وَارْزُقْنِي، وَاهْدِنِي এরপর তিনি সেজদায় যেতেন।” -(হাসান) মুসনাদে আহমাদ (২৮৯৫), সুনানে আবু দাউদ (৮৫০)।


নবীজী ﷺ তাকবীর বলে সেজদায় যেতেন।


ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَسْجُدُ (وَفِيْ رِوَايَةٍ: حِيْنَ يَهْوِيْ سَاجِداً)، ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَرْفَعُ رَأْسَهُ ثُمَّ يَفْعَلُ ذَلِكَ فِي الصَّلَاةِ كُلِّهَا حَتَّى يَقْضِيَهَا.


“এরপর সেজদায় যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন (অন্য বর্ণনামতে, যখন সেজদায় নেমে যেতেন), এরপর যখন মাথা উঠাতেন তখন তাকবীর বলতেন। এরপর নামায শেষ করা পর্যন্ত তিনি পুরো নামাযে তাকবীর বলতেন।” -সহীহ বুখারী (৭৮৯), সহীহ মুসলিম (৩৯২), সহীহ ইবনে খুযায়মা (৬২৪)।


ধীরস্থির ও স্বাভাবিকভাবে সেজদা আদায়ের প্রতি গুরুত্ব দিতেন।


اعْتَدِلُوا فِي السُّجُودِ


“সেজদায় স্থির হও।” -সহীহ বুখারী (৮২২), সহীহ মুসলিম (৪৯৩), মুসনাদে আহমাদ (১২০৬৬)।র্


ثُمَّ اسْجُدْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ سَاجِدًا.


“এরপর সেজদা করে স্থির অবস্থায় সেজদা কর।” -সহীহ বুখারী (৭৫৭) , সহীহ মুসলিম (৩৯৭), মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (২৯৭৫)।


সেজদায় যাওয়ার সময় প্রথমে হাঁটু, পরে হাত, এরপর মুখ জায়নামাযে রাখতেন।


إِذَا سَجَدَ يَضَعُ رُكْبَتَيْهِ قَبْلَ يَدَيْهِ، وَإِذَا نَهَضَ رَفَعَ يَدَيْهِ قَبْلَ رُكْبَتَيْهِ.


“যখন সেজদায় যেতেন হাতের পূর্বে হাঁটু রাখতেন। যখন দাঁড়াতেন হাঁটুর পূর্বে হাত উঠাতেন।” -(হাদীস সহীহ) সুনানে তিরমিযী (২৬৮), সুনানে আবু দাউদ (৮৩৮), সহীহ ইবনে খুযায়মা (৬২৬), সহীহ ইবনে হিব্বান (১৯১২)।


رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ‘ كَبَّرَ فَحَاذَى بِإِبْهَامَيْهِ أُذُنَيْهِ، ثُمَّ رَكَعَ حَتَّى اسْتَقَرَّ كُلُّ مَفْصِلٍ مِنْهُ فِى مَوْضِعِهِ، وَرَفَعَ رَأْسَهُ حَتَّى اسْتَقَرَّ كُلُّ مَفْصِلٍ مِنْهُ فِى مَوْضِعِهِ، ثُمَّ انْحَطَّ بِالتَّكْبِيرِ حَتَّى سَبَقَتْ رُكْبَتَاهُ يَدَيْهِ


-(হাসান) সুনানে দারাকুতনী (১৩০৮), মুসতাদরাকে হাকেম ১/২২৬, সুনানে বায়হাকী ২/৯৯, আলআহাদীসুল মুখতারা (২৩১০)।


সেজদায় যাওয়ার সময় কাপড় গুটাতেন না, আপন অবস্থায় ছেড়ে দিতেন।


وَلاَ يَكُفُّ شعْراً وَلاَ ثَوْباً.


“চুল বা কাপড় গুটিয়ে রাখতেন না।” -সহীহ বুখারী (৮০৯), সহীহ মুসলিম (৪৯০), সুনানে আবু দাউদ (৮৮৯)।


সেজদা দু’হাত, দু’হাঁটু, দু’পা এবং মুখ- এই ‘সাত অঙ্গের’ উপর ভর দিয়ে আদায় করতেন।


أُمِرَ النَّبِيُّ ‘ أَنْ يَسْجُدَ عَلَى سَبْعَةِ أَعْضَاءٍ وَلَا يَكُفَّ شَعْرًا وَلَا ثَوْبًا الْجَبْهَةِ وَالْيَدَيْنِ وَالرُّكْبَتَيْنِ وَالرِّجْلَيْنِ.


“নবীজীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সাত অঙ্গ নিয়ে সেজদা করতে, চুল বা কাপড় গুটিয়ে না রাখতে। সাত অঙ্গ হলো কপাল, দু’হাত, দু’হাঁটু ও দু’পা।” -সহীহ বুখারী (৮০৯) সহীহ মুসলিম (৪৯০), সুনানে নাসাঈ (১০৯৩)।


দু’হাতের মাঝখানে নাক ও কপাল ভালোভাবে রাখতেন।


فَلَمَّا سَجَدَ سَجَدَ بَيْنَ كَفَّيْهِ.


“যখন সেজদা করলেন দু’হাতের মাঝে সেজদা করলেন ।” -সহীহ মুসলিম (৪০১), মুসনাদে আহমাদ (১৮৮৬৬), আলমুজামুল কাবীর-তাবারানী ২২/ (৭৫)।


দু’হাতের তালু কান বরাবর রাখতেন।


ثُمَّ سَجَدَ فَجَعَلَ كَفَّيْهِ بِحِذاءِ أُذُنَيْه.


“এরপর তিনি সেজদা করলেন। তখন দুই হাতকে কান বরাবর রাখলেন।” -(সহীহ) সুনানে নাসাঈ (৮৮৯), সহীহ ইবনে হিব্বান (১৮৬০), মুসনাদে আহমাদ (১৮৮৭০)।


হাতের আঙ্গুলগুলো মিলিয়ে কিবলামুখী করে রাখতেন।


كَانَ إِذَا رَكَعَ فَرَّجَ أَصَابِعَهُ، وَإِذَا سَجَدَ ضَمَّ أَصَابِعَهُ.


“যখন তিনি রুকূ করতেন আঙ্গুলগুলো ফাঁকা ফাঁকা করে রাখতেন। আর যখন সেজদা করতেন আঙ্গুলগুলো মিলিয়ে রাখতেন।” -(হাদীস সহীহ) সহীহ ইবনে হিব্বান (১৯২০), সহীহ ইবনে খুযায়মা (৬৪২), মুসতাদরাকে হাকেম (৮২৬) ১/২২৭।


وَإِذَا سَجَدَ وَجَّهَ أَصَابِعَهُ قِبَلَ الْقِبْلَةِ


“তিনি যখন সেজদা করতেন তখন আঙ্গুলগুলো কেবলামুখী করে রাখতেন।” -(হাদীস হাসান) মুসনাদে র্স্রাাজ (৩৫২), সুনানে বায়হাকী ২/১১৩।


দু’পায়ের আঙ্গুল কিবলামুখী করে গোড়ালীদ্বয় দাঁড় করে রাখতেন।


عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: فَوَجَدْتُهُ سَاجِدًا رَاصًّا عَقِبَيْهِ مُسْتَقْبِلاً بِأَطْرَافِ أَصَابِعِهِ لِلْقِبْلَةِ.


“আমি তাঁকে সেজদারত পেলাম, পা দাঁড় করানো, আঙ্গুলগুলো কেবলামুখী।” -(হাদীস সহীহ) সহীহ ইবনে হিব্বান (১৯৩৩), মুসতাদরাকে হাকেম (৮৩২) ১/২২৮।


নবীজী ﷺ হাঁটুর সাথে কনুইকে এবং পাঁজরের সাথে বাহুকে মিলাতেন না, বরং ফাঁকা রাখতেন।


فَإِذَا سَجَدَ وَضَعَ يَدَيْهِ غَيْرَ مُفْتَرِشٍ وَلَا قَابِضِهِمَا.


“তিনি যখন সেজদা করলেন হাত (এমনভাবে) রাখলেন ছড়িয়েও নয়, গুটিয়েও নয়।” -সহীহ বুখারী (৮২৮), সুনানে আবু দাউদ (৭৩২)।


إِذَا سَجَدَ جَافَى عَضُدَيْهِ عَنْ جَنْبَيْهِ.


“যখন সেজদায় গেলেন বাহুদ্বয়কে দু’পাশ থেকে পৃথক রাখলেন।” -(সহীহ) সুনানে আবু দাউদ (৯০০), সুনানে ইবনে মাজাহ (৮৮৬)।


পুরুষদেরকে হাত মাটির সাথে বিছিয়ে রাখতে নিষেধ করেছেন


إِذَا سَجَدْتَ فَضَعْ كَفَّيْكَ وَارْفَعْ مِرْفَقَيْكَ


“যখন সেজদা করবে তখন হাত মাটিতে রাখো এবং কনুই উঁচু করে রাখো।” -সহীহ মুসলিম (৪৯৪), মুসনাদে আহমাদ (১৮৪৯১), সহীহ ইবনে হিব্বান (১৯১৬), সহীহ ইবনে খুযায়মা (৬৫৬)।


اعْتَدِلُوا فِي السُّجُودِ وَلَا يَبْسُطْ أَحَدُكُمْ ذِرَاعَيْهِ انْبِسَاطَ الْكَلْبِ.


“সেজদায় স্থির হও, তোমাদের কেউ যেন কুকুরের মত হাত বিছিয়ে না দেয়।” -সহীহ বুখারী (৮২২) সহীহ মুসলিম (৪৯৩)।


এবং পিঠ সোজা রাখতে বলেছেন।


لاَ تَجْزِئُ صَلاَةٌ لاَ يُقِيمُ فِيْهَا الرَّجُلُ -يَعْنِي- صُلْبَهُ فِى الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ.


“সে নামায সঠিক নয় যে নামাযে (অর্থাৎ রুকূ-সেজদায়) মুসল্লী তার পিঠ সোজা রাখে না।” -(সহীহ) সুনানে তিরমিযী (২৬৫), সহীহ ইবনে খুযায়মা (৫৯১), সহীহ ইবনে হিব্বান (১৮৯২)।


সেজদায় سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلى বারংবার বলতেন।


عَنْ حُذَيْفَةَ: صَلَّيْتُ مَعَ رَسُوْلِ اللّهِ ‘، فَرَكَعَ فَقَالَ فِيْ رُكُوْعِهِ: سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ، وَفِيْ سُجُوْدِهِ: سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلىَ.


“হুযায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নামায পড়েছি। তিনি রুকূতে গিয়ে سُبْحَانَ رَبِّي الْعَظِيمِ، পড়লেন, আর সেজদায় গিয়ে পড়লেন سُبْحَانَ رَبِّي الْأَعْلىَ.” -(সহীহ) সুনানে নাসাঈ (১০৪৬), সহীহ মুসলিম (৭৭২), মুসনাদে আহমাদ (৩৫১৪)।


কখনো তিনবার বলতেন।


وَإِذَا سَجَدَ (أَحَدُكُمْ) فَقَالَ في سُجُودِهِ سُبْحَانَ رَبِّىَ الأَعْلَى ثَلاَثَ مَرَّاتٍ فَقَدْ تَمَّ سُجُودُهُ وَذَلِكَ أَدْنَاهُ.


“কেউ যদি সেজদা করে ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা’ তিনবার বলে তার সেজদা পরিপূর্ণ হয়। এই তিনবার তাসবীহ হলো সর্বনিম্ন তাসবীহ।” -(হাদীস হাসান) সুনানে তিরমিযী (২৬১), সুনানে আবু দাউদ (৮৮৬), সুনানে ইবনে মাজাহ (৮৯০)।


তাহাজ্জুদে কখনো আরও বড় দুআ পড়তেন।


সুনানে নাসাঈ (১১২৮), যাদুল মাআদ ১/৩২০।


সাহাবা কেরামকে গুরুত্বের সাথে সেজদায় দুআ পড়তে বলেছেন।


সহীহ মুসলিম (৪৭৯), সহীহ ইবনে খুযায়মা (৬৬৪), সুনানে নাসাঈ (১০৪৫)।


তাকবীর বলে স্থির হয়ে শান্তভাবে বসতেন।


ثُمَّ اسْجُدْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ سَاجِدًا، ثم ارْفَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ جَالِسًا.


“এরপর তুমি সেজদা করে সেজদা অবস্থায় স্থির হও। এরপর মাথা তুলে স্থির হয়ে বসো।” -সহীহ বুখারী (৭৫৭), সহীহ মুসলিম (৩৯৭), সুনানে তিরমিযী (৩০৩)। 


وَكَانَ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ السَّجْدَةِ لَمْ يَسْجُدْ حَتَّى يَسْتَوِيَ.


“তিনি যখন সেজদা থেকে মাথা তুলতেন সোজা হয়ে বসার পূর্বে সেজদায় যেতেন না।” -সহীহ মুসলিম (৪৯৮), সহীহ মুসলিম (৪৯৮), দ্র. সুনানে আবু দাউদ (৭৮৩)।


সেজদার পূর্বে বা পরে হাত তুলতেন না।


وَلَا يَفْعَلُ ذَلِكَ حِينَ يَسْجُدُ وَلَا حِينَ يَرْفَعُ رَأْسَهُ مِنْ السُّجُودِ.


“সেজদায় যাওয়ার সময় এবং সেজদা থেকে মাথা তোলার সময় তিনি তা করতেন না।” -সহীহ বুখারী (৭৩৮), সহীহ মুসলিম (৩৯০), সুনানে নাসাঈ (৮৭৬)।


প্রথম বৈঠকের মতো বসতেন। অর্থাৎ বাম পা বিছিয়ে ডান পা খাড়া রাখতেন। পায়ের গোড়ালীর উপর বসতে নিষেধ করেছেন।


كَانَ يَنْهَى عَنْ عُقْبَةِ الشَّيْطَانِ


“তিনি পায়ের গোড়ালীর উপর বসতে নিষেধ করেছেন।” -সহীহ মুসলিম (৪৯৮), মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (২৯৫৬), মুসনাদে আহমাদ (২৪০৩০)।র্


لَا تُقْعِ إِقْعَاءَ الْكَلْبِ


“কুকুরের বসার মত বসো না।”


আঙ্গুল কিবলামুখী রাখতেন।


وَكَانَ يَفْرِشُ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَيَنْصِبُ رِجْلَهُ الْيُمْنَى، وَفِى رِوَايَةٍ: وَيَقْعَدُ عَلَيْهَا.


“তিনি বাম পা বিছিয়ে দিতেন আর ডান বা দাঁড় করিয়ে রাখতেন। অন্য বর্ণনায়, তিনি তার উপর বসতেন।” -সহীহ মুসলিম (৪৯৮), সুনানে আবু দাউদ (৭৮৩), মুসনাদে আহমাদ (২৫৬১৭)। দ্র. যাদুল মাআদ ১/২৩০, ২৩৫, সহীহ ইবনে খুযায়মা (৬৭৭)।


قَالَ ابْنُ عُمَرَ: مِنْ سُنَّةِ الصَّلاَةِ أَنْ تَنْصِبَ الْقَدَمَ الْيُمْنَى وَاسْتِقْبَالُهُ بِأَصَابِعِهَا الْقِبْلَةَ وَالْجُلُوسُ عَلَى الْيُسْرَى.


“ইবনে উমার রা. বলেন, নামাযের সুন্নাত হলো ডান পা দাঁড় করে রেখে তার আঙ্গুল কেবলামুখী রাখা এবং বাম পায়ের উপর ভর দিয়ে বসা।” -(সহীহ) সুনানে নাসাঈ (১১৫৮), সহীহ বুখারী (৮২৭)।


দু’হাত দু’পায়ের হাঁটুর কাছাকাছি উরুর উপর রাখতেন


كَانَ إِذَا جَلَسَ فِي الصَّلَاةِ وَضَعَ كَفَّهُ الْيُمْنَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُمْنَى، وَوَضَعَ كَفَّهُ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى. وَفِيْ رِوَايَةٍ: وَوَضَعَ يَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى رُكْبَتِهِ الْيُسْرَى.


“যখন তিনি নামাযে সেজদা করতেন তখন ডান হাত ডান উরুর উপর রাখতেন আর বাম হাত বাম উরুর উপর রাখতেন। অন্য বর্ণনায়, বাম হাত বাম হাঁটুর উপর রাখতেন।” -সহীহ মুসলিম (৫৮০, ৫৭৯), মুয়াত্তা মুহাম্মাদ (১৪৫) ১/২২৮, সুনানে নাসাঈ (১২৬৭), মুসনাদে আহমাদ (৫৩৩১)।


এবং প্রথম সেজদার মতো দ্বিতীয় সেজদা আদায় করতেন।নফল নামাযে দু’সেজদার মাঝখানে নবীজী ﷺ দুআ পড়তেন।


إِنَّ رَسُولَ اللهِ ‘ قَالَ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ فِي صَلاةِ اللَّيْلِ: رَبِّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَارْفَعْنِي، وَارْزُقْنِي، وَاهْدِنِي ثُمَّ سَجَدَ.


“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের নামাযে দু’সেজদার মাঝের বৈঠকে বলতেন, رَبِّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَارْفَعْنِي، وَارْزُقْنِي، وَاهْدِنِي এরপর তিনি সেজদায় যেতেন।” -(হাসান) মুসনাদে আহমাদ (২৮৯৫), সুনানে আবু দাউদ (৮৫০)।


তাশাহুদঃ 


নবীজী ﷺ দ্বিতীয় রাকআতে দ্বিতীয় সেজদা শেষ করে তাকবীর বলে বসতেন।


كَانَ يَقُولُ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ التَّحِيَّةُ.


“প্রতি দুই রাকআতে তিনি আততাহিয়্যাতু পড়তেন।” -সহীহ মুসলিম (৪৯৮), মুসনাদে আহমাদ (২৪০৭৬), সহীহ ইবনে হিব্বান (১৭৬৮)।


বাম পা বিছিয়ে বসতেন, ডান পা খাড়া রাখতেন।


كَانَ إِذَا جَلَسَ يَفْرِشُ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَيَنْصِبُ رِجْلَهُ الْيُمْنَى.


“যখন তিনি বসতেন বাম পা বিছিয়ে দিতেন আর ডান পা দাঁড় করে রাখতেন।” -(সহীহ) সুনানে আবু দাউদ (৭৮৩), মুসনাদে আহমাদ (২৪০৩০), সহীহ মুসলিম (৪৯৮)।


পায়ের আঙ্গুলগুলো যথাসম্ভব কিবলামুখী করে রাখতেন।


সুনানে নাসাঈ (১১৫৮), সহীহ বুখারী (৮২৭)।


নবীজী ﷺ তাশাহ্হুদে বাম হাত বাম রানের উপর হাঁটুর কাছাকাছি স্বাভাবিকভাবে রাখতেন। ডান হাতও এভাবে রাখতেন।


إِذَا جَلَسَ فِى الثِّنْتَيْنِ أَوْ فِى الأَرْبَعِ يَضَعُ يَدَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ ثُمَّ أَشَارَ بِأُصْبُعِهِ.


“দ্বিতীয় বা চতুর্থ রাকাতে তিনি যখন বসতেন দুই হাত দুই উরুর উপর রাখতেন, এরপর আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতেন।” -(সহীহ) সুনানে নাসাঈ (১১৬১), সুনানে বায়হাকী ২/১৩২, সুনানে কুবরা-নাসাঈ (৭৪৫)।


ইশারা করার সময় ডান হাতের আঙ্গুল রাখার একাধিক পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। তবে এভাবেও রাখতেন- অনামিকা ও কনিষ্ঠাঙ্গুল ভাঁজ করে মধ্যমা ও বৃদ্ধাঙ্গুল দ্বারা গোলক বানাতেন।


قَالَ وَائِلُ بْنِ حُجْرٍ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ ‘ قَدْ حَلَّقَ الْإِبْهَام وَالْوُسْطَى، وَرَفَعَ الَّتِي تَلِيهِمَا، يَدْعُو بِهَا فِي التَّشَهُّدِ وفي رواية: وقَبَضَ ثِنْتَينِ.


“ওয়াইল বিন হুজর রা. বলেন, আমি নবীজীকে দেখেছি, তিনি বৃদ্ধাঙ্গুল ও মধ্যমা দ্বারা বৃত্ত তৈরি করেছেন এবং এদুটির সংলগ্ন আঙ্গুল উঁচু করে ইশারা করেছেন। অন্য বর্ণনামতে, অপর দুই আঙ্গুল তিনি গুটিয়ে রেখেছিলেন।” -(হাদীস সহীহ) সুনানে ইবনে মাজাহ (৯১২), সুনানে আবু দাউদ (৭২৬), সুনানে নাসাঈ (১২৬৫)।


নবীজী ﷺ সাহাবা কেরামকে তাশাহ্হুদ গুরুত্বের সাথে শেখাতেন।


كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ‘ يُعَلِّمُنَا التَّشَهُّدَ كَمَا يُعَلِّمُنَا السُّورَةَ مِنَ الْقُرْآنِ.


“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে তাশাহহুদ শেখাতেন যেভাবে তিনি আমাদেরকে কুরআনের সূরা শেখাতেন।” -সহীহ মুসলিম (৪০৩), সহীহ বুখারী (৬২৬৫), মুসনাদে আহমাদ (২৮৯২)।


তাশাহ্হুদে বসে এই দুআ (তাহিয়্যা) নিম্নস্বরে পড়তেন


التَحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ. “


فَإِذَا قَعَدَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلاَةِ فَلْيَقُلْ: التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ - إِلَى قَوْلِهِ - الصَّالِحِين.


“কেউ যখন নামাযে বসে সে যেন বলে, আততাহিয়্যাতু ... শেষ পর্যন্ত।” -সহীহ বুখারী (৬২৩০, ৬৩২৮) সহীহ মুসলিম (৪০২), সুনানে তিরমিযী (২৯১)।


قَاَل ابْنُ مَسْعُوْدٍ : مِنْ سُنَّةِ الصَّلَاةِ أَنْ يُخْفَى التَّشَهُّدُ.


“ইবনে মাসউদ রা. বলেন, নামাযের সুন্নাহ হলো তাশাহহুদ নিম্নস্বরে পড়া।” -(সহীহ) মুসতাদরাকে হাকেম (৮৩৮) ১/২৩০, সুনানে আবু দাউদ (৯৮৬)।


وأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ” বলার সময় শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করা উত্তম।


فَقَالَ بِإِصْبَعِهِ السَّبَّابَةِ يَرْفَعُهَا إِلَى السَّمَاءِ وَيَنْكُتُهَا إِلَى النَّاسِ: اللَّهُمَّ اشْهَدْ اللَّهُمَّ اشْهَدْ


“নবীজী ﷺ শাহাদাত আঙ্গুল আকাশের দিকে তুলে তারপর যমীনের দিকে ইশারা করতে করতে বললেন, আয় আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থেকো, আয় আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থেকো।” -সহীহ মুসলিম (১২১৮), দ্র. সহীহ বুখারী (১৭৪১), সুনানে নাসাঈ (৩১৮২), সুনানে আবু দাউদ (১৯০৫), সহীহ ইবনে হিব্বান (৩৯৪৪) ।


عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِى وَقَّاصٍ قَالَ مَرَّ عَلَىَّ النَّبِىُّ ‘ وَأَنَا أَدْعُو بِأُصْبُعَىَّ فَقَالَ:أَحِّدْ أَحِّدْ. وَأَشَارَ بِالسَّبَّابَةِ


“হযরত সাদ ইবনে ওয়াক্কাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন আমি আমার দুই আঙ্গুল উঠিয়ে দুআ করছিলাম। নবীজী ﷺ তখন বললেন, এক, এক (এক আঙ্গুল দিয়ে দুআ করো।) এবং ঐ সময় তিনি তাঁর শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করেন।” (এখানে এ আঙ্গুল দিয়ে ইশারার নির্দেশ দ্বারা তাওহীদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।) -(সহীহ) সুনানে আবু দাউদ (১৪৯৯), মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক (৩২৫৫), সুনানে কুবরা-নাসাঈ (১১৯৬), মুসতাদরাকে হাকেম (১৯৬৬)।


বৈঠকের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আঙ্গুল নাড়ানো সহীহ হাদীসে প্রমাণিত নয়। ইশারা করার সময় আঙ্গুলের দিকে দৃষ্টি রাখতেন।


وَأَشَارَ بِالسَّبَّابَةِ، وَلَمْ يُجَاوِزْ بَصَرُهُ إِشَارَتَه.


“তিনি শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন। তাঁর দৃষ্টি ইশারাকে ছাড়িয়ে যেত না।” -(হাদীস সহীহ) মুসনাদে আহমাদ (১৬১০০) সহীহ ইবনে হিব্বান (১৯৪৪) সুনানে আবু দাউদ (৯৯০)।


দু’রাকআত বিশিষ্ট নামাযে তাশাহ্হুদের পর দরূদ ও দুআ পড়তেন।


إذا صَلَّى أحَدُكُم فليَبْدأ بتَمْجيدِ رَبِّه والثَّناءِ عليه، ثم يُصَلِّي على النبيِّ ‘، ثم يدعو بعدُ بما شاءَ.


“কেউ যখন নামায পড়ে (এবং তাশাহহুদে দুআ করে) সে যেন তাঁর প্রতিপালকের বড়ত্ব ও প্রশংসা দিয়ে শুরু করে। এরপর নবীর নামে দরূদ পড়ে। এরপর যা ইচ্ছা দোয়া করে।” -(সহীহ) সুনানে আবু দাউদ (১৪৮১), সুনানে তিরমিযী (৩৪৭৭), সহীহ ইবনে খুযায়মা (৭১০)।


قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: يَتَشَهَّدُ الرَّجُلُ، ثُمَّ يُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ ‘، ثُمَّ يَدْعُو لِنَفْسِهِ.


“মুছল্লী নামাযে তাশাহহুদ পড়বে। এরপর সে নবীর নামে দরূদ পড়বে, এরপর নিজের জন্যে দোয়া করবে।” -(সহীহ) মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (৩০৪৩), মুসতাদরাকে হাকেম (৯৯০) ১/২৬৮। দ্র. সুনানে নাসাঈ (১১৬৩)।


সাধারণত নিম্নের দরূদটি পড়তেন।


اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ.


قال: قُوْلُوْا: اَللّهُمَّ صَلِّ عَلى مُحَمَّدٍ ... إنَّكَ حَمِيْدٌمَجِيْدٌ.


“তিনি বললেন, তোমরা এ দুরুদটি বলো: (اللهم صل على محمد ... إنك حميد مجيد )। - সুনানে বায়হাকী ২/১৪৮, সহীহ বুখারী (৪৭৯৭), সহীহ মুসলিম (৪০৫)।


দরূদ শেষে দুআ পড়তেন। হাদীসে বিভিন্ন দুআ বর্ণিত হয়েছে। নবীজী ﷺ আবু বকর রা.কে এই দুআ শিক্ষা দিয়েছিলেন,


اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي إِنَّك أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ


عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ أَنَّهُ قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ ‘: عَلِّمْنِي دُعَاءً أَدْعُو بِهِ فِي صَلَاتِي قَالَ قُلْ ....


“আবুবকর সিদ্দীক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন, আপনি আমাকে দোয়া শেখান, যে দোয়া আমি নামাযে পড়ব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি বলো.......” -সহীহ বুখারী (৮৩৪) সহীহ মুসলিম (২৭০৫), সুনানে কুবরা-নাসাঈ (১২২৫)।



নবীজী ﷺ তিন বা চার রাকআত বিশিষ্ট নামাযে প্রথম দু’রাকআত লম্বা করতেন।


  قَالَ سَعْدٌ لِعُمَرَ: أَمَّا أَنَا، فَأَمُدُّ فِي الأُولَيَيْنِ، وَأَحْذِفُ فِي الأُخْرَيَيْنِ، وَلاَ آلُو مَا اقْتَدَيْتُ بِهِ مِنْ صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ ‘.

  

“সা’দ রা. উমার রা.কে বললেন, আমি প্রথম দু’রাকাতে কেরাত দীর্ঘ করি আর পরের দু’রাকাতে কেরাত সংক্ষিপ্ত করি। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামাযের অনুসরণ করতে ত্রুটি করি না।” -সহীহ বুখারী (৭৭০), সহীহ মুসলিম (৪৫৩), সুনানে আবু দাউদ (৮০৩)।


তিন বা চার রাকআতের নামাযে প্রথম বৈঠকে শুধু তাশাহ্হুদ পড়তেন।


  عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: عَلَّمَنِي رَسُولُ اللهِ ‘ التَّشَهُّدَ فِي وَسَطِ الصَّلَاةِ وَفِي آخِرِهَا ...قال: ثُمَّ إِنْ كَانَ فِي وَسَطِ الصَّلَاةِ نَهَضَ حِينَ يَفْرُغُ مِنْ تَشَهُّدِهِ، وَإِنْ كَانَ فِي آخِرِهَا دَعَا بَعْدَ تَشَهُّدِهِ بِمَا شَاءَ اللهُ أَنْ يَدْعُوَ ثُمَّ يُسَلِّمُ.

  

“আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের মাঝে ও নামাযের শেষে তাশাহহুদ শিখিয়েছেন। .... তিনি বলেন, যদি নামাযের মাঝের তাশাহহুদ হয় তাহলে তাশাহহুদ শেষ করে তিনি দাঁড়াতেন। আর যদি শেষে হতো তাহলে তাশাহহুদ পাঠের পর যা দোয়া ইচ্ছা পড়তেন, এরপর সালাম ফেরাতেন।” -(হাদীস সহীহ) মুসনাদে আহমাদ (৪৩৮২) সহীহ ইবনে খুযায়মা (৭০২), শরহু মাআনিল আছার১/১৮৬।


তাশাহ্হুদ শেষে তাকবীর বলে দাঁড়িয়ে যেতেন।


يُكَبِّرُ حِينَ يَقُومُ مِنْ الْجُلُوسِ فِي الِاثْنَتَيْن.


“দ্বিতীয় রাকাতে বসা থেকে উঠার সময় তাকবীর বলতেন।” -সহীহ বুখারী (৮০৩) সুনানে নাসাঈ (১০২৩), সুনানে আবু দাউদ (৮৩৬)।


ফরয নামাযের তৃতীয় ও চতুর্থ রাকআতে সূরা ফাতিহা পড়ে রুকূতে যেতেন। অন্য সূরা মিলাতেন না।


إِنَّ النَّبِيَّ ‘ كَانَ يَقْرَأُ فِي الظُّهْرِ فِي الْأُولَيَيْنِ بِأُمِّ الْكِتَابِ وَسُورَتَيْنِ، وَفِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُخْرَيَيْنِ بِأُمِّ الْكِتَابِ، وَيُسْمِعُنَا الْآيَةَ، وَيُطَوِّلُ فِي الرَّكْعَةِ الْأُولَى مَا لَا يُطَوِّلُ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ، وَهَكَذَا فِي الْعَصْرِ وَهَكَذَا فِي الصُّبْحِ.


“নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের প্রথম দু’রাকাতে সূরা ফাতেহা ও দুটি সূরা পড়তেন এবং শেষ দু’রাকাতে সূরা ফাতেহা পড়তেন। তিনি কোনো কোনো আয়াত আমাদের শোনাতেন। তিনি প্রথম রাকআত যতটুকু দীর্ঘ করতেন, দ্বিতীয় রাকআত অতটুকু দীর্ঘ করতেন না। এরূপ করতেন আসরে ও ফজরেও।” -সহীহ বুখারী (৭৭৬), সহীহ মুসলিম (৪৫১), সুনানে আবু দাউদ (৭৯৮)।


নবীজী ﷺ থেকে শিক্ষাপ্রাপ্ত সাহাবা রা. থেকেও সূরা ফাতিহা না পড়া প্রমাণিত।


كَانَ عَلِيّ  يَقْرَأُ فِي الْأُولَيَيْنِ مِنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ بِأُمِّ الْقُرْآنِ وَسُورَةٍ، وَلَا يَقْرَأُ فِي الْأُخْرَيَيْنِ


“আলী রা. যোহর ও আসরের প্রথম দু’রাকআতে সূরা ফাতেহা ও আরেকটি সূরা পড়তেন। শেষ দু’রাকআতে পড়তেন না।” -(সহীহ) মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক (২৬৫৬), দ্র.আলমুজামুল কাবীর (৯৩১৩), শরহু মুশকিলিল আছার ১২/৫২।


নফল নামাযে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলাতেন।


  عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ، قَالَ: أَدْمَنَ رَسُولُ اللهِ ‘ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ عِنْدَ زَوَالِ الشَّمْسِ... قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ تَقْرَأُ فِيهِنَّ كُلِّهِنَّ؟ قَالَ: قَالَ: نَعَمْ.

  

“আবু আইয়ূব আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য ঊর্ধ্বগামী হওয়ার সময় চার রাকআত নামায পড়তে পছন্দ করতেন। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে রাসূলুল্লাহ, আপনি কি প্রতি রাকাতে কেরাত পাঠ করেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ।” -(হাদীস হাসান) মুসনাদে আহমাদ (২৩৫৩২), সুনানে বায়হাকী ২/৪৮৮।


পূর্বোল্লিখিত নিয়মেই রুকূ সেজদা আদায় করতেন।


নবীজী ﷺ এর আখেরী বৈঠক প্রথম বৈঠক তথা দ্বিতীয় রাকআতের পর তাশাহ্হুদের বৈঠকের মত ছিলো। আখেরী বৈঠকে তাশাহ্হুদের পর দরূদ ও অন্য দুআ পড়তেন।


নামাজান্তে সালামঃ



নবীজী ﷺ শেষ বৈঠকে দুআর পর সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করতেন।


مِفْتَاحُ الصَّلاَةِ الطُّهُورُ، وَتَحْرِيمُهَا التَّكْبِيرُ، وَتَحْلِيلُهَا التَّسْلِيمُ.


“নামাযের চাবি হলো পবিত্রতা। নামাযের তাহরীমা (নামায পরিপন্থী সকল কাজকে হারাম করে) হলো তাকবীর, নামাযের তাহলীল (সকল কাজকে হালাল করে) হলো সালাম।” -(হাদীস সহীহ) সুনানে তিরমিযী (৩, ২৩৮), সুনানে আবু দাউদ (৬১), দ্র. সুনানে তিরমিযী (২৩৮), সুনানে ইবনে মাজা (২৭৬)।


كَانَ يُسَلِّمُ عَنْ يَمِيْنِهِ وَعَنْ يَسَارِهِ: أَلسَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ، السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ.


“তিনি ডানদিকে ও বামদিকে সালাম ফেরাতেন- আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।” -(সহীহ) সুনানে তিরমিযী (২৯৫), সুনানে নাসাঈ (১৩২৪), সুনানে আবু দাউদ (৯৯৭)।


সালাম দীর্ঘায়িত করতেন না।


  عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ  قَالَ: حَذْفُ السَّلَامِ سُنَّةٌ.

  

“আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সালামে অতিরিক্ত টান না দেয়া সুন্নাত।” -(হাদীস হাসান) সুনানে তিরমিযী (২৯৭) সহীহ ইবনে খুযায়মা (৭৩৪) মুসতাদরাকে হাকেম (৮৪২), ১/২৩১।


সালাম ফিরানোর সময় স্বাভাবিকভাবে এতোটুকু পরিমাণ ‘মাথা মুবারক’ ঘুরাতেন যে, নবীজী ﷺ এর ‘গাল মুবারক’ পিছনে উপস্থিত মুসল্লিদের দৃষ্টিগোচর হতো।


  عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: كُنْتُ أَرَى رَسُولَ اللَّهِ ‘ يُسَلِّمُ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ يَسَارِهِ حَتَّى أَرَى بَيَاضَ خَدِّهِ.

  

“আমির ইবনে সাদ রা. তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ডানে ও বামে সালাম ফেরাতে মাথা এটুকু ঘুরাতে দেখেছি যে, তাঁর গালের শুভ্রতা দেখতে পেতাম।” -সহীহ মুসলিম (৫৮২), সুনানে নাসাঈ (১৩১৬), সুনানে কুবরা-নাসাঈ (৭৩২)।


সালামের পর দুআ করতেন। সুন্নাতে রাতিবা থাকলে তা আদায় করতেন।